ভারতের রাজধানীর এক রেলস্টেশনে শনিবার দিনের শেষে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্ম-ভিত্তিক জমায়েতের অন্যতম, মহাকুম্ভ মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য অসংখ্য মানুষ একই সঙ্গে ট্রেন ধরতে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য ও প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
মহাকুম্ভ মেলায় প্রতি ১২ বছর কোটি কোটি হিন্দু পূণ্যার্থী ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর প্রয়াগরাজে উপস্থিত হন। এই আয়োজনকে ঘিরে এর আগেও এ ধরনের দুর্ঘটনার ইতিহাস রয়েছে—এমন কি, গত মাসেও এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে গঙ্গা, যমুনা ও পৌরাণিক সরস্বতী নদীর পবিত্র সঙ্গমস্থলে পুণ্যস্নানের সময় ৩০ ব্যক্তি পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান।
মনে হচ্ছে দিল্লির রেলস্টেশনে বিপুল সংখ্যক পূণ্যার্থীর চাপে শনিবার শুরু হয়, এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রেনে উঠতে গিয়ে মানুষ মরিয়া হয়ে উঠে।
নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
রেল স্টেশনে কাজ করেন এমন এক কুলির বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, “আমি এখানে কুলি হিসেবে ১৯৮১ সাল থেকে কাজ করছি, কিন্তু কখনো এরকম ভিড় দেখিনি।”
প্রয়াগরাজগামী একটি বিশেষ ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম হঠাত করে বদলানো হলে “মানুষজন একে অপরের সাথে ধাক্কা খেতে শুরু করে এবং তারা এসকেলেটর ও সিঁড়িতে পড়ে যেতে থাকে”, জানান ওই কুলি।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই দুর্ঘটনার কারণ জানতে একটি “উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত” প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৈষ্ণব জানান, পূণ্যার্থীদের ভিড় সামলাতে নয়াদিল্লিতে বাড়তি ও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, তিনি পদপিষ্ট হয়ে পূণ্যার্থীদের মৃত্যুর সংবাদে “মর্মাহত” হয়েছেন।
“যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, আমি তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই। আমি প্রার্থনা করছি যাতে আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন”, সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন মোদী।
ছয় সপ্তাহের মহাকুম্ভ মেলা একক ভাবে হিন্দু ধর্মের পঞ্জিকায় সবচেয়ে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। কর্মকর্তারা জানান, গত মাস থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে ইতোমধ্যে ৫০ কোটি মানুষ যোগ দিয়েছেন।