কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ার একটি পর্যটন সৈকতে কমপক্ষে ৭৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী বহনকারী এক নৌকা পৌঁছায়, কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের নামতে বাধা দেয়। বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫।
চারজন শিশুসহ এই শরণার্থী দলটি স্থানীয় সময় দুপুর ২:০০ টায় আচেহ প্রদেশের একটি সৈকতে পৌঁছায়।
তবে নিরাপত্তা কর্মীরা শরণার্থীদের নামতে বাধা দেন এবং তাদের নৌকাতেই থাকার নির্দেশ দেন।
সৈকতটি মনিটর করতে সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকার ছবি তোলেন এবং শরণার্থীদের খাবার দেন।
এই মাসের শুরুর দিকে ২৬০ এরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আচেহ প্রদেশের সৈকতে পৌঁছেছিল।
গত বছরের নভেম্বর মাসে পূর্ব আচেহ উপকূলের কাছে তাদের নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ১০০-রও বেশি শরণার্থী উদ্ধার করা হয়।
তাছাড়া অক্টোবর মাসে ১৫২ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী দক্ষিণ আচেহ জেলার উপকূলে কয়েকদিন নোঙর করে থাকার পর তাদের তীরে আনা হয়। তারা নোঙর করে অপেক্ষায় ছিলেন কারণ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন, তাদের নামতে দেওয়া হবে কিনা।
বেশিরভাগ মুসলিম রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ব্যাপকভাবে নির্যাতিত হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ ও বিপজ্জনক সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে যায়।
ইন্দোনেশিয়াতে অনেকে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও অন্য স্থানীয়রা তাদের আচরণ অসামাজিক বলে অভিযোগ তুলেছে।
শরণার্থীদের সংখ্যা বাড়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে, শত শত স্থানীয় শিক্ষার্থী আচেহ শহরে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিচ্ছিল এমন একটি অনুষ্ঠান হলে হামলা চালিয়ে তাদের জিনিসপত্রে লাথি মারে, যার কারণে তখনও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়।