সেনাবাহিনী এবং ক্ষমতাচ্যূত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগতদের মধ্যে সংঘাতে সাম্প্রদায়িক হত্যাকান্ডের তদন্তকারী তথ্য-অনুসন্ধানী সিরীয় কমিটি মঙ্গলবার বলে যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং তারা যে কোন অপরাধীর গ্রেপ্তার ও বিচার চাইবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের খবরে এবং যুদ্ধে নজরদারিত্বকারী সংগঠনের এমন খবরের পর যে ক্ষমতাচ্যূত প্রেসিডেন্টের আলাওয়াইত সম্প্রদায়ের অধিকাংশ সদস্য যে গ্রামগুলিতে বাস করতো সেখানে শত শত অসামরিক লোককে হত্যা করা হয়েছে, সিরিয়ার ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর এই ঘটনা তদন্ত করার চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিরিয়ার এই তথ্য-অনুসন্ধানী কমিটির মুখপাত্র ইয়াসের ফারহান টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই কমিটি সেই সংগঠনকে যারা এটি চালু করে, তাদের প্রেসিডন্টকে এবং বিচার বিভাগকে এর সমস্ত ফলাফল জানাবে”।
ফারহান বলেন কমিটি সাক্ষীদের এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করছে এবং পর্যাপ্ত প্রমাণসহ তারা যে কোন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আইনের হাতে তুলে দিবে।
যখন জানতে চাওয়া হয় যে এই সহিংসতার প্রমাণের জন্য কমিটি কি আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইবে, তখন ফারহান বলেন তারা সহযোগিতার ব্যাপারে “উন্মুক্ত” কিন্তু তারা নিজেদের জাতীয় ব্যবস্থা ব্যবহার করাটা পছন্দ করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলছে যে আসাদ অনুগতদের উত্থানের বিরুদ্ধে উপকুলীয় অঞ্চলে উপর্যুপরি সাম্প্রদায়িক হত্যার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী নারী ও শিশুসহ বহু লোককে হত্যা করেছে।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সোমবার এক সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে বলেন যে তিনি এখনও এটা বলতে পারছেন না যে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সৈন্যরা- যারা একটি অভিন্ন কাঠামোতে সাবেক বিদ্রোহীদেরও সম্পৃক্ত করেছে- তারা এই সাম্প্রদায়িক হত্যার সঙ্গে জড়িত কীনা।
বৃহস্পতিবার এই সহিংসতা শুরু হয় যখন কর্তৃপক্ষ জানায় যে তাদের বাহিনী উপকুলীয় অঞ্চলে ক্ষমতাচ্যূত আসাদ সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত যোদ্ধাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়।
সুন্নি ইসলামপন্থিদের নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের কথায় আসাদ সরকারের অবশিষ্টাংশের এই প্রাণঘাতী, সুপরিকল্পিত আক্রমণকে প্রতিহত করতে সেখানে আরও বাহিনী পাঠায় ।
তবে শারা রয়টার্সের কাছে স্বীকার করেন যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আগে কোন সমন্বয় না করেই কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী সেখানে প্রবেশ করে।
সিরিয়ায় সুন্নি মুসলমানদের পরই আলাওয়াইতরা হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্শী গোষ্ঠী । তারা শিয়া সম্প্রদায়েরই একটি শাখা।