ছবিতে সৌদি আরবের জেদ্দায় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার জন্য ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে বৈঠকে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫।
বৈঠকটি জেদ্দার একটি বিলাসবহুল হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির ২৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বৈঠক। সেই নজিরবিহীন ঘটনার পর এই বৈঠকটি একটি নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা সোমবার দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন যে তারা কৃষ্ণ সাগরজুড়ে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেবেন, যা নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ এবং বন্দিদের মুক্তির বিষয়টিও এই প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রধান কর্মকর্তা আন্দ্রিয় ইয়র্মাক, যিনি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের অংশ, এক্স-এ লিখেছেন যে বৈঠকটি "খুব গঠনমূলকভাবে" শুরু হয়।
জেলেন্সকি তার ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি সমর্থন জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন যে রাশিয়ার সাথে আকাশ ও সাগরপথে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিটি মস্কোর যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি করবে।
ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তি দিয়েছেন যে ইউক্রেন কেবল শক্তির ভিত্তিতে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারবে এবং কিয়েভকে আক্রমণকারীর সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় জড়ানোর ক্ষেত্রে চাপ দেওয়া উচিত নয়।
দুই পক্ষকে কী কী ছাড় দিতে হবে তা স্পষ্টভাবে বলতে রাজি হননি রুবিও, তবে তিনি বলেছেন যে কিয়েভের জন্য তার হারানো সব অঞ্চল পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।
জেদ্দায় যাওয়ার পথে সংবাদদাতাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুবিও সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে মঙ্গলবারের বৈঠক নিয়ে আশা প্রকাশ করেছিলেন।
রুবিও বলেন, ওয়াশিংটনের কিয়েভের অবস্থান বুঝতে হবে এবং তারা কী ছাড় দেবে সে বিষয়ে একটা সাধারণ ধারণা থাকা দরকার।
বৈঠকটি চলাকালীন, মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনীয় ড্রোন মস্কোর উপকণ্ঠে একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং পার্কিং লটে আঘাত হানে। দুই পক্ষই বলেছে, এটি তিন বছরের চলমান সংঘাতের মধ্যে রাশিয়ার রাজধানী লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় আক্রমণ ছিল।
কিয়েভ বলেছে যে এই আঘাতগুলি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তাদের দূরপাল্লার হামলা বন্ধ করার আহ্বান মেনে নিতে বাধ্য করবে, যা মস্কো আগে প্রত্যাখ্যান করেছিল।