অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

 
ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেন ইরানের শীর্ষ নেতা

ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেন ইরানের শীর্ষ নেতা


তেহরানে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (৮ মার্চ, ২০২৫)।
তেহরানে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (৮ মার্চ, ২০২৫)।

ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আসা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার চাপে নতি স্বীকার করেননি, কারণ ওই আলোচনার লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও এই অঞ্চলে তাদের প্রভাবের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ।

শনিবার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের নাম না উল্লেখ করলেও জানান একটি “বুলিইং সরকার” আলোচনার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, “তাদের আলোচনার উদ্দেশ্য সমস্যার সমাধান নয়, এটা হচ্ছে তাদের চাহিদাগুলো টেবিলের অপর পাশে বসে থাকা পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার আলোচনা।"

খামেনির এই বক্তব্যের আগের দিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাকে চিঠি পাঠিয়ে তেহরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করার ইচ্ছে প্রকাশের বিষয়টি স্বীকার করেন। ইরানের দ্রুতগতিতে আগাতে থাকা পরমাণু কর্মসূচির ওপর রাশ টেনে ধরতে এবং তার প্রথম মেয়াদে যে পরমাণু চুক্তি থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, তার বিকল্প একটি চুক্তি করতে চান ট্রাম্প।

খামেনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো সামরিক এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের সাথে সংশ্লিষ্ট।

ইরানে রাষ্ট্রপরিচালনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন খামেনি। তিনি জানান, এ ধরনের আলোচনায় ইরান ও পশ্চিমের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে না। যদিও খামেনি কোনো ব্যক্তি বা দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তিনি জানান, আলোচনার জন্য চাপ অব্যাহত থাকলে তা ইরান বিষয়ে বিশ্ব জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।

“এটা দরকষাকষি নয়। এটা আদেশ দেওয়া এবং চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা”, বলেন তিনি।

শুক্রবার ওভাল অফিসে সংবাদদাতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প চিঠির বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেননি। তবে তিনি সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে উল্লেখ করে বলেন, “ইরানের সঙ্গে আমাদের একটি পরিস্থিতি চলছে, যাতে খুব শিগগির কিছু হতে পারে। খুব শিগগির।”

এমন সময় ট্রাম্প এই আহ্বান জানালেন যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, তারা কখনো ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না, যার ফলে, সামরিক সংঘাতের আশংকা দেখা দিয়েছে, কারণ, তেহরান অস্ত্র-গ্রেডের ইউরেনিয়াম পরিশোধনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে—যা এ যাবত শুধু পরমাণু অস্ত্র-সমৃদ্ধ দেশগুলো করতে পেরেছে।

XS
SM
MD
LG