ইসরায়েল বলছে, গাজার যুদ্ধবিরতির “উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিতে” তারা সোমবার কাতারে একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত জঙ্গি সংগঠন হামাস মিশরীয় ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিলম্বিত দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় “ইতিবাচক ইঙ্গিতের” কথা জানিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে শুধু জানানো হয়েছে তারা “যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন”, আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়াও বিস্তারিত তথ্য জানাননি। এক মাস আগেই দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরুর কথা ছিল।
হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে, বুধবার হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, তারা সরাসরি হামাসের সঙ্গে আলোচনা করছে, যা সবাইকে বিস্মিত করে।
গত এক সপ্তাহে ইসরায়েল হামাসকে বাকি জিম্মিদের অর্ধেককে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা গত সপ্তাহান্তে উত্তীর্ণ হয়েছে। সঙ্গে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির দরকষাকষিরও অঙ্গীকার করেছে দেশটি। ধারণা করা হচ্ছে, হামাসের কাছে ২৪ জন জীবিত জিম্মি ও ৩৫ জনের মরদেহ রয়েছে।
গত সপ্তাহান্তে ইসরায়েল গাজা ও এর ২০ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে সব ধরনের পণ্যের প্রবাহ বন্ধ করে হামাসকে এই প্রস্তাব মেনে নিতে চাপ দিয়েছে। সংগঠনটি বলছে, এই পদক্ষেপ বাকি জিম্মিদেরও প্রভাবিত করবে।
চলমান যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক সংঘাতে বিরতি এনেছে, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের নেতৃত্বে হামলার পর শুরু হয়েছিল। প্রথম ধাপে ২৫ জীবিত জিম্মি ও অপর আট জনের মরদেহের বিনিময়ে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি কয়েদি মুক্তি পান।
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরাইল, মিশর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানও হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।
ইসরায়েলি বাহিনী নিজেদের অবস্থান থেকে সরে গাজার ভেতরের বাফার জোনে চলে গেছে, হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এই যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো উত্তর গাজায় তাদের নিজ বাসস্থানে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন এবং ইসরায়েল পণ্যের প্রবাহ বন্ধের দিনটি পর্যন্ত শত শত ট্রাকভর্তি ত্রাণ গাজায় প্রবেশ করেছে।
তেল আবিবে সাপ্তাহিক বিক্ষোভের আগে জিম্মিদের আত্মীয়রা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আর্জি জানান। তিনি বুধবার আট জিম্মির সঙ্গে দেখা করেছেন।
তারা বলেন, “মি. প্রেসিডেন্ট, যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার অর্থ হল জীবিত থাকা জিম্মিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। স্যার, নেতানিয়াহু যাতে তাদেরকে বলিদান করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করুন।”