অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

 
ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতকে সহায়তার অঙ্গীকারের কথা জানালেন ট্রাম্প

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতকে সহায়তার অঙ্গীকারের কথা জানালেন ট্রাম্প


হোয়াইট হাউসে আয়োজিত “ক্রিপ্টো সম্মেলনে” প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পেছনে মন্ত্রিসভার সদস্য ও ক্রিপ্টো উপদেষ্টারা দাঁড়িয়ে আছেন। ওয়াশিংটন,৭ মার্চ, ২০২৫।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত “ক্রিপ্টো সম্মেলনে” প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পেছনে মন্ত্রিসভার সদস্য ও ক্রিপ্টো উপদেষ্টারা দাঁড়িয়ে আছেন। ওয়াশিংটন,৭ মার্চ, ২০২৫।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব অর্জনে সহায়তা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ সময় ওই খাতের নেতারা আগের প্রশাসনের ডিজিটাল সম্পদের বিরুদ্ধে, তাঁদের কথায়, অন্যায্য আক্রমণের ধারা উল্টে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করেন।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত প্রথম “ক্রিপ্টো সম্মেলনে” ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, এই খাতে সবার আগে থাকা খুবই জরুরি।”

এই সম্মেলনে বিভিন্ন ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতারা অংশ নেন, যাদের অনেকেই পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল সম্পদের বিষয়ে ট্রাম্পের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নতুন করে সাহস ফিরে পাওয়া এই শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বাইডেন প্রশাসন তাদের প্রতি অন্যায্য আচরণ করেছিল যা গত নির্বাচনে ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকানদের জয়ী হতে সাহায্য করেছে।

ট্রাম্প আবারও সুবিধাজনক আইন ও সহজ নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ক্রিপ্টো শিল্পকে সহায়তা করার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন।

ক্রিপ্টো শিল্পকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন ট্রাম্প প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে, যার সর্বশেষটি ছিল শুক্রবারের এই সম্মেলন। উল্লেখ্য, এসব উদ্যোগের মধ্যে আছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বড় বড় ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া বেশ কিছু পদক্ষেপ বাতিল করা হলো। এরকম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নেতারা শুক্রবারের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প “কৌশলগত বিটকয়েন রিজার্ভ” তৈরির জন্য একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে বিটকয়েন বিক্রি করা থেকে বিরত রাখছে। ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার মাধ্যমে অনেক ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করেছে সরকার, যার বর্তমান বাজার দর প্রায় ১,৭০০ কোটি ডলার।

এই আদেশের মাধ্যমে ট্রেজারি ও বাণিজ্য দপ্তরকে সরকারের জন্য “বাজেট নিরপেক্ষ” পরিকল্পনা করে বাড়তি বিটকয়েন কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার কোনো বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।

এই আদেশটি বিটকয়েনের গ্রহণযোগ্যতা ও বৈধতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। সবচেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন ছিল ক্রিপ্টোগ্রাফি নিয়ে উৎসুক, মুক্তমনের মানুষদের একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, যা মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে এক লাখ ৭০ হাজার কোটি মূল্যমানের সম্পদে পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের “ক্রিপ্টো জার” নামে পরিচিত ডেভিড স্যাকস শুক্রবার সংবাদদাতাদের বলেন, “বিটকয়েন অসামান্য”।

ট্রাম্পের নির্দেশে একটি “ডিজিটাল সম্পদ সংরক্ষণাগার” তৈরি হয়েছে, যেখানে সরকার বিটকয়েন ছাড়া অন্যান্য আটককৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি জমা রাখবে। রবিবার ট্রাম্প জানান, তিনি চান সরকার অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি, যেমন এক্সআরপি, সোলানা ও কারডানো সংরক্ষণ করুক। তার এই বিস্ময়কর ঘোষণার পর স্বল্প সময়ের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার দর চড়ে যায়।

কেন ট্রাম্প আলাদা করে এসব ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম উল্লেখ করেছেন, সেটা স্পষ্ট নয়। তার ঘোষণায় ক্রিপ্টো সম্প্রদায়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। অনেকে ধারণা করেন, সরকার বিভিন্ন ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সির মধ্যে কোনটি জয়ী ও কোনটি পরাজিত, তা বেছে নিতে পারে।

ক্রিপ্টোর জগতে ট্রাম্পের পদচারণায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার নিজের নামে একটি মিম কয়েনের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং তার নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের আরও ধনী করে তোলার অন্যান্য উদ্যোগ। ডেমোক্র্যাটরা এবং এমন কী, ট্রাম্পকে সমর্থন করেন এমন ক্রিপ্টো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এসব উদ্যোগের তাত্ক্ষণিক সমালোচনা করেছেন।

স্যাকস শুক্রবার সংবাদদাতাদের বলেন, ট্রাম্পের ব্যক্তি পর্যায়ের ক্রিপ্টো-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো এই খাতে প্রশাসনের কার্যক্রমের সঙ্গে “অপ্রাসঙ্গিক”। স্যাকস এর ভাষায়, তাদের কাজ হলো উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এমন ন্যায্য ও স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বে ক্রিপ্টোকারেন্সির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা এবং একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষিত রাখা।

স্যাকস আরও জানান, আমেরিকানদের ক্রিপ্টো কিনতে উৎসাহিত করা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

স্যাকস বলেন, “এটা খুবই অস্থিতিশীল একটি শিল্প খাত, যে কারণে আপনাদেরকে এ বিষয়ে জেনেবুঝে আগাতে হবে”,এটা সবার জন্য নয়।”

XS
SM
MD
LG