অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৩৬ সদস্য গ্রেপ্তার


নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৩৬ সদস্য গ্রেপ্তার
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৩৬ সদস্য গ্রেপ্তার

সারা দেশে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৩৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

শনিবার (৮ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অন্যতম সংগঠক সাইফুল ইসলামও রয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, "গতকাল (শুক্রবার) ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের বাইরে সমাবেশে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির সদস্যদের ধরতে পুলিশ দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে। অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, "আমরা সমাবেশের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। ইতোমধ্যে হিজবুত তাহরীরের অনেক সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।"

সংগঠনটির সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বেশ কয়েকটি মামলাও করেছে পুলিশ।

শুক্রবার কী হয়েছিল বায়তুল মোকাররমের সামনে

ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীর মিছিলে বাধা দেওয়ায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

শুক্রবার (৭ মার্চ) দুপুরে জুমার নামাজের পর ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে মিছিলটি বের করে সংগঠনটি। এতে অংশ নেয় সংগঠনের অসংখ্য সদস্য।

একপর্যায়ে তাদের বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সে বাধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে এগোতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরুতে লাঠিচার্জ এবং একপর্যায়ে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা খিলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। তবে পুলিশ দ্রুত তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সক্রিয় হলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

এদিন সকাল থেকেই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির দেওয়া ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচি ঘিরে বায়তুল মোকাররম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেয়।

হিযবুত তাহরীর

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছে ধর্মভিত্তিক এই সন্ত্রাসী সংগঠন হিযবুত তাহরীর। তাদের মূল লক্ষ্য ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠা ও শরিয়া বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা সংগঠনটি এখন অনেকটা প্রকাশ্যে তাদের কাজ চালাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনই ঢাকায় মিছিল করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এরপর আরও নানা দাবিতে মিছিলের পাশাপাশি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনও করেছে সংগঠনটি। চট্টগ্রামেও পালন করেছে নানা কর্মসূচি।

সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক ইমতিয়াজ সেলিম বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সরকার পতন আন্দোলনে শুরু থেকেই তাদের কর্মীরা অংশ নেয়; তবে তারা কোনো ব্যানার ব্যবহার করেনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ গুঁড়িয়ে হিযবুত তাহরীরের পোস্টারও লাগানো হয়েছিল।

২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হিযবুত তাহরীর। সংবাদ সম্মেলনে হিযবুত তাহরীরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায় সংগঠনটির নেতারা।

তৎকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯–এর অধীনে হিযবুত তাহরীরের কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আবেদন করা হয়েছে বলে ৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। জার্মানি, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও পাকিস্তানে হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

XS
SM
MD
LG