বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন হামাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ইসরায়েলকে গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে আসতে উৎসাহিত করেছে।
গাজায় আটক অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি না দিলে ‘নরক তৈরি হবে’ বলে ট্রাম্প মন্তব্য করার একদিন পরে হামাস এ মন্তব্য করে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্লাটফর্ম ট্রুথ-এ বলেন, “জিম্মিদের এখনই মুক্তি দিন, পরে নয়। আপনারা যাদের হত্যা করেছেন অবিলম্বে তাদের সমস্ত মৃতদেহ ফিরিয়ে দিন। নয়তো আপনাদের সময় শেষ।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “কাজ শেষ করার জন্য ইসরায়েলের যা যা করা দরকার তার সবই আমি পাঠাচ্ছি। আমি যা বলছি তা না করলে হামাসের একজন সদস্যও নিরাপদে থাকবে না।”
শনিবার প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে। এর অধীনে হামাস ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মি ও ৫ জন থাই নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে; এবং ইসরায়েল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।
বুধবার হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, তারা হামাসের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত সূত্রগুলো জানায়, আলোচনাটি গাজায় এখনো আটক থাকা আমেরিকান জিম্মিদের মুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই আলোচনাকে ‘আমেরিকান জনগণের জন্য যা মঙ্গল তা করার একটি শুভ প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, হামাসের সাথে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তার অবস্থান ব্যক্ত করেছে।
গাজায় যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে। ওই হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। গাজায় ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় ৪৮ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানায় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরাইল, মিশর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানও হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।
এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য এপি, এএফপি এবং রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে।