প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্র অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের প্রতিরক্ষার জন্য এগিয়ে দেবে বলে যে মন্তব্য করেছেন, রাশিয়া সেটাকে একটি “হুমকি” হিসেবে দেখছে বলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গে লাভরফ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন ।
ইউক্রেনে সংঘাত বন্ধ করেতে যদি কোন চুক্তি হয়, তাহলে সেখানে ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েনে রাশিয়ার বিরোধিতা লাভরফ পুনরায় ব্যক্ত করেন।
ম্যাক্রোঁ বুধবার রাশিয়াকে “ইউরোপ এবং ফ্রান্সের প্রতি হুমকি” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন নিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করায় ফ্রান্স “যুক্তিসঙ্গত কারণে উদ্বিগ্ন।”
জার্মানির সম্ভাব্য পরবর্তী চ্যান্সেলর ফ্রিড্রিখ মার্টজ-এর সাথে ফোনে আলাপের পর ফরাসী নেতা বলেন, ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধক বিস্তৃত করা নিয়ে তিন একটি আলোচনা শুরু করবেন।
“অবশ্যই এটা রাশিয়ার প্রতি একটা হুমকি,” লাভরফ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন। “তিনি (ম্যাক্রোঁ) যদি আমাদেরকে একটি হুমকি হিসেবে দেখেন … এবং বলেন যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার প্রয়োজন আছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাহলে অবশ্যই এটা একটা হুমকি।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সম্ভবত ফ্রান্সকে ইঙ্গিত করে পরে বলেন, “এখনো এমন লোক আছে যারা নেপোলিয়নের সময়ে ফিরে যেতে চায়, তারা ভুলে যায় কীভাবে সেটা শেষ হয়েছিল।”
ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৮১২ সালে রুশ সাম্রাজ্য হামলা করেন, এবং তার ছয়-মাসব্যাপী বিপর্যয়গ্রস্ত অভিযান রাশিয়ার বিজয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া যাখারোভা বৃহস্পতিবার আগের দিকে বলেন যে, ম্যাক্রোঁ “বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন” হয়ে গেছেন এবং তিনি “পরস্পর-বিরোধী মন্তব্য” করছেন।
ম্যাক্রোঁ পুনরায় বলেন যে, ইউক্রেনে যদি শান্তি চুক্তি সাক্ষর হয়, তাহলে সেটার “সম্মানের” গ্যারান্টি দিতে ইউরোপীয় সামরিক বাহিনী ইউক্রেনে মোতায়েন করা যেতে পারে।
লাভরফ বলেন যে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী হিসেবে ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে রাশিয়ার বিরোধিতা অবিচল রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন সেই বাহিনী নিরপেক্ষ হবে না।
“আমরা আপোষের কোন জায়গা দেখছি না। এই আলোচনা একটি শত্রুতাপূর্ণ লক্ষ্য নিয়ে প্রকাশ্যে করা হচ্ছে,” লাভরফ যোগ দেন।
হিটলার আর নেপোলিয়ন
লাভরফ বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনে নেটো বাহিনীর উপস্থিতি যেভাবে দেখবে, এ;ধরনের বাহিনীকেও একই ভাবে দেখবে।
তিনি ম্যাক্রোঁকে হিটলার আর নেপোলিয়নের সাথে তুলনা করে বলেন, ঐসব নেতাদের মত ম্যাক্রোঁ খোলাখুলি ভাবে রাশিয়া দখল করার কথা বলেন নি, কিন্তু “তিনি স্পষ্টত একই জিনিস চান।”
তিনি আরও বলেন যে, ম্যাক্রোঁ “রাশিয়ার বিরুদ্ধে বোকার মত অভিযোগ তুলছেন” যেগুলো পুতিন “পাগলামি আর অর্থহীন” বলে নাকচ করে দিয়েছেন।
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকফ ম্যাক্রোঁর ভাষণকে “অত্যন্ত মারমুখী” বলে অভিহিত করে বলেন যে, রাশিয়া মনে করছে “ফ্রান্স যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে।”
পেসকফ বলেন যে, ম্যাক্রোঁ বলছে “রাশিয়া বস্তুত ফ্রান্সের শত্রু হয়ে গেছে,” কিন্তু নেটোর সামরিক উপস্থিতি যে রাশিয়ার সীমান্তে চলে এসেছে, সে কথা তিনি বলছেন না।
বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যান্দ্রে বেলুসভ রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন।
তার সফরের সময় তিনি পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের বলেন যে সামরিক বাহিনী অদূর ভবিষ্যতে “নতুন অস্ত্র” হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়।