যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ইউক্রেনের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। এই পদক্ষেপ রাশিয়ার সাথে কিয়েভের তিন বছরের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে হ্রাস করতে পারে। ওয়াশিংটন সংঘাতের দ্রুত অবসানের জন্য দেশ দুটিকে শান্তি আলোচনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির সাথে বিতর্কিত বৈঠকের পর কিয়েভের যোদ্ধাদের সামরিক সহায়তা স্থগিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বুধবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও এই মুহূর্তে কিয়েভের সাথে তাদের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সাথে জেলেন্সকির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়কে জেলেন্সকি “দুঃখজনক” বলে অভিহিত করার এবং ইউক্রেন রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত- জেলেন্সকির এমন বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বোক্ত পদক্ষেপের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত হতে পারে।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে রুশ বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসহ উল্লেখযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে।
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ বুধবার সংবাদদাতাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘এক ধাপ পিছু হটেছে’ এবং প্রশাসন ইউক্রেনের সাথে তাদের গোয়েন্দা সম্পর্কের ‘সকল দিক পর্যালোচনা করে দেখছে।’
এদিকে ওয়াল্টজ সিবিএস নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করতে এবং কিয়েভের সাথে খনিজ অধিকার চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য শান্তি আলোচনা শুরু করতে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাশিয়ার সাথে শাটল কূটনীতি চালিয়ে যাবার সময় ট্রাম্পের কর্মকর্তারা ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন।
মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তিনি জেলেন্সকির কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। চিঠিতে ইউক্রেনের নেতা রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ সমাপ্ত করার আলোচনা শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
জেলেন্সকি বলেন, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে তার তিক্ত আলাপ “দুঃখজনক”। তিনি বলেন, তিনি এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত রয়েছেন যা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রযুক্তি পণ্য তৈরির জন্য ইউক্রেনে মজুদ প্রয়োজনীয় ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজগুলোতে যথেষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী অধিকার দেবে।