আরব নেতারা মঙ্গলবার গাজার পুনঃনির্মাণ সম্পর্কে মিশরের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যাতে ব্যয় হবে ৫৩০০ কোটি ডলার আর এর ফলে ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তর করার কোন প্রয়োজন পড়বে না। এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিপরীত।
মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল এল-সিসি বলেন এই প্রস্তাবটি কায়রোর একটি শীর্ষ বৈঠকের সমাপ্তি অধিবেশনে গৃহীত হয়।
মিশর আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাতারের আমির, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ট্রাম্পের জানুয়ারি পরিকল্পনা ছিল ফিলিস্তিনিদের গাজার বাইরে পুনর্বাসন করা যখন গাজা পুনঃ নির্মাণ করা হবে কিন্তু এর বিপরীতে মিশরের পরিকল্পনায় ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলা এবং মাইন পরিস্কার করা পর্যন্ত গাজার বাশিন্দাদের গাজার ভেতরেই সাতটি নির্দিষ্ট স্থানে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মিশর ও বহু আরব রাষ্ট্র ট্রাম্পের “মধ্য প্রাচ্য রিভিয়েরা” পরিকল্পনার অংশটির বিরোধীতা করছে । ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় গাজার ফিলিস্তিনিদের এই পুনঃ নির্মাণের সময়ে গাজার বাইরে স্থানান্তর করার কথা বলা হয়েছে।
ওই বৈঠকের সময়ে এক মন্তব্যে, সিসি গাজা পুনঃনির্মাণে ট্রাম্পের সহায়তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বলেন যে মিশরের পরিকল্পনায় ওই অঞ্চলের শাসন চালাতে অস্থায়ী গভর্নিং বডির সংযুক্তির কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন যে মিশরের প্রস্তাব হচ্ছে এই অন্তর্বর্তী সময়ে ওই অঞ্চলটির শাসন একদল টেকনোক্র্যাট চালাতে পারেন যখন নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অঞ্চলের জন্য দাতাদের কাছ থেকে অর্থায়নের প্রচেষ্টা চালানো হবে। তিনি আরও বলেন যে আগামি মাসে মিশর দাতাদের একটি সম্মেলনের আয়োজন করবে।
যুক্তরাষ্ট্র অভিহিত সন্ত্রাসী সংগঠন হামাস এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় তবে ইসরায়েল এর সমালোচনা করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যে যুদ্ধ শুরু হয় আরব শীর্ষ বৈঠক সেই পরিস্থিতির বাস্তবতার “মোকাবিলা করতে ব্যর্থ” হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে,“হামাসের নৃশংস সন্ত্রাসী আক্রমণ, যার ফলে হাজার হাজার ইসরায়েলির মৃত্যু ঘটেছে এবং শত শত ইসরায়েলি অপহৃত হয়েছে সে সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি, এই ঘাতক সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে কোন নিন্দাও জানানো হয়নি”।
ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস বলেন তিনি মিশরের এই পরামর্শকে স্বাগত জানান এবং এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানাতে ট্রাম্পকে বলেন কারণ এতে ফিলিস্তিনিদের স্থানচ্যূত ঘটানোর বিষয়টি নেই।
মিশরে ইজিপ্ট-জাপান ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজিতে রাজনৈতিক সমাজতত্বের শিক্ষক সাইদ সাদেক ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন যে অনেক আরবই হামাসকে নিরস্ত্র করার বিরোধী এবং গাজার পুনঃনির্মাণের জন্য তাদের ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য করতে চায়।
তিনি বলেন,“মূলত এই শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার বিষয় হবে হামাসকে কি ভাবে প্রান্তিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যায় এবং আন্তর্জাতিক মুসলিম শান্তি রক্ষী মোতায়েন করা আর ফিলিস্তিনি পুলিশদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাতে পুনঃনির্মাণের প্রক্রিয়া চালানো যায়”।
সৌদি মালিকানাধীন আল আরাবিয়া টিভি জানায় যে অন্তর্বর্তী সময়ে যে পর্যন্ত না নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ প্রশিক্ষিত হয় এবং একদল টেকেনাক্র্যাট ওই অঞ্চলটির শাসন চালানো শুরু করেন, সে পর্যন্ত জাতিসংঘকে একটি সম্মিলিত আরব-আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনে সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়ে আরব নেতারা একটি প্রস্তাব অনুমোদন করতে পারেন। মিশর এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলটি মিশরের নিয়ন্ত্রণে ছিল কিন্তু ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল তা দখল করে নেয়।
আরব সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ে আরব লীগের মুখপাত্র জামাল রুশদি মিশরের গাজা পরিকল্পনা সম্পর্কে মতানৈক্য কমিয়ে আনার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন গাজা পুনঃনির্মাণের পরিকল্পনা হচ্ছে ওই অঞ্চলটি আবার গড়ে তোলার দীর্ঘ পথযাত্রার কেবলমাত্র শুরু । তা ছাড়া পুনঃনির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নও দরকার।
হামাস ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে এবং বলছে যে তারা তাদের অস্ত্র রাখবে তবে তারা “লাল রেখাটি” অতিক্রম করবে না। অপরদিকে ইসরায়েল বৈরিতা শুরু করার হুমকি দিয়েছে এবং ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যমগুলি দাবি করছে যে হামাস যোদ্ধা হিসেব আরও লোক ভর্তি করেছে এবং তাদের বাহিনী আবার ৩০,০০০ ‘এ উন্নীত হয়েছে।
তেমন কোন বড় রকমের সাফল্য ছাড়াই মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা হামাসের সঙ্গে আলোচনা করেছে সেই ২০০৭ সাল থেকে যখন তারা প্রধান ফাতাহ গোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে বহিস্কার করে প্রথম গাজার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ২০০৫ সালে ইসরায়েল গাজা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার পর এই পুলিশ বাহিনী গঠন করা হয়।
এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য রয়টার্স থেকে নেওয়া হয়েছে।