যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেসের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রথম কয়েক সপ্তাহের কাজের কথা তুলে ধরবেন।
অভিষেকের বছর ছাড়া অন্যান্য বছরে এই ভাষণকে সাধারণত 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। এই ভাষণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানানোর জন্য একটি মঞ্চ পাবেন ট্রাম্প এবং একইসঙ্গে সরকারী কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করার ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ানোর বিতর্কিত ঘটনাগুলো নিয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পাবেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানদের একতাবদ্ধ করে ১৪ মার্চের সময়সীমা পার হওয়ার আগে বাজেট সংক্রান্ত বিল পাস করানো। নিম্নবিত্তদের জন্য স্বাস্থ্য বিমার জোগান দেওয়া মেডিকএইডের মতো জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা বলয় প্রকল্পগুলো কাটছাঁট করা, যুক্তরাষ্ট্রের দেনা পরিশোধ করা ও ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কর রেয়াতের সময়সীমা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে দোটানায় আছেন রিপাবলিকানরা।
ট্রাম্প তার অভ্যন্তরীণ নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অর্থায়ন পেতে “একটি বড়, অসামান্য বিল” পাসের আহ্বান জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, এটা ধনাঢ্যদের সুবিধা দেবে।
গত সপ্তাহে সেনেটের মাইনরিটি নেতা চাক শুমার বলেন, “এতে কোনো ভুল নেই, এটা বয়জ্যেষ্ঠ, শিশু ও শারীরিক-মানসিকভাবে অক্ষমদের বঞ্চিত করে সেই অর্থ দিয়ে ধনীদের আরও ধনী বানাবে।”
ট্রাম্প অন্যান্য দেশের পণ্যে আমদানি শুল্ক আরোপের বিষয়ে তার যুক্তিগুলোও উপস্থাপন করবেন বলে ধারণা করা হয়চ্চে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার থেকেই কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
ওভাল অফিসে ট্রাম্পের প্রথম কয়েক সপ্তাহের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তার প্রচারণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, অভিবাসননীতির সংস্কার সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ। আশা করা হচ্ছে, তিনি মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি মঙ্গলবারের বক্তব্যে উল্লেখ করবেন।
একইসঙ্গে তিনি ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বে সরকারি কর্মদক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়েও কথা বলবেন।
প্রথাগতভাবে, কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের ভাষণে অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়া হলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে বেশ কিছু বৈদেশিক নীতিমালা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের বিষয় উঠে আসতে পারে।
গত শুক্রবার ওভাল অফিসে জেলেন্সকির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর ট্রাম্প সংবাদদাতাদের জানান, তিনি মনে করেন না ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া, ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর উদ্ভূত সংঘাতের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টির উপযুক্ত স্বীকৃতি দিয়েছে কিয়েভ।
গাজার যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত-পূর্ণ এই অঞ্চলে আবাসন উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলবেন ট্রাম্প, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।
সেনেটর ও সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক এলিসা স্লটকিন ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিক্রিয়া জানাবেন। স্লটকিন মিশিগানে সেনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। স্লটকিন ভোটারদের উদ্দেশ্যে যে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, তার মূলে ছিল অর্থনীতি।
(ভয়েস অফ আমেরিকার কিম লুইস এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন।)