মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমিতে থাকার নিশ্চয়তা দিয়ে গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রস্তুত। মঙ্গলবার কায়রোতে জরুরি আরব শীর্ষ সম্মেলনে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।
গাজার নিয়ন্ত্রণ ও ফিলিস্তিনিদের অন্যত্রপুনর্বাসনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা আরব দেশগুলো এই ধারণার মোকাবিলায় কূটনীতিক অভিযানে একমত হওয়ার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝে ৪ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। এই পরিকল্পনায় দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ওপর জোর দিয়ে দীর্ঘকালীন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি থেকে তারা সরে আসে। এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি ও আরব দেশগুলোর মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে।
গাজার জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল
আবদেলাত্তি বলেন, মিশর এই পরিকল্পনার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও তহবিল চাইবে। তিনি বিশেষ করে গাজার পুনর্গঠনে অর্থায়নে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন।
ভূমধ্যসাগর বিষয়ক ইইউ কমিশনার দুব্রাভকা শুইতসার সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আরব লীগের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে পরিকল্পনা গৃহীত হওয়ার পর আমরা প্রধান দাতা দেশগুলোর সাথে নিবিড় আলোচনা করবো।”
গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি নিয়ে অচলাবস্থার মাঝেরবিবার গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। আবদেলাত্তি বলেন, সমষ্টিগত শাস্তির অস্ত্র হিসেবে ত্রাণসহায়তাকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া যায় না।
এই সপ্তাহান্তে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
আবদেলাত্তি মূলত সম্মত যুদ্ধবিরতির প্রতি মিশরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল।
এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, তারা রমজান ও পাসওভারের সময় গাজায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
আবদেলাত্তি বলেন, মঙ্গলবারের শীর্ষ সম্মেলনের পর ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবে জরুরি বৈঠকে বসবেন।