শনিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কীর স্টারমার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকিকে লন্ডনে উষ্ণ সম্বর্ধনা জানান।
এ দুটি দেশ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে সহায়তা দিতে ২৮৪ কোটি ডলারের একটি ঋণ চুক্তি সম্পাদন করেছে। রাশিয়ার অচল সম্পদগুলির লাভের অর্থ দিয়ে এই ঋণ পরিশোধ করা হবে।
জেলেন্সকির যানবহর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে , তাঁর সমর্থকরা উল্লাস প্রকাশ করেন এবং সেখানে স্টারমার তঁকে আলিঙ্গন করেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি আবাস স্থলে প্রবেশের আগে তাঁরা ছবি তোলেন।
স্টারমার জেলেন্সকিকে বলেন,“আপনাকে এখানে, এই ডাউনিং স্ট্রিটে অনেক অনেক স্বাগতম”।
তিনি আরও বলেন,“যেমনটি আপনি বাইরে রাস্তায় উল্লাস ধ্বণি শুনছেন, গোটা যুক্তরাজ্য জুড়ে আপনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং যতদিনই লাগুক আমরা আপনার সঙ্গে, ইউক্রেনের সঙ্গে রয়েছি”।
জবাবে জেলেন্সকি বলেন,“এই যুদ্ধের একেবারে শুরু থেকে বিশাল সমর্থন জানানোর জন্য আমি আপনাদেরকে, যুক্তরাজ্যের জনগণকে ধন্যবাদ জানাতে চাই” । রবিবার রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথা।
স্টারমার ও জেলেন্সকি প্রায় ৭৫ মিনিটের মতো রুদ্ধ দ্বার বৈঠক করেন এবং জেলেন্সকিকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার সময় স্টারমার আবার তাঁকে আলিঙ্গন করেন।
শনিবার দিনে আরও আগের দিকে জেলেন্সকি জোর দিয়েই বলেন যে আগের দিন তাঁদের মধ্যে বাকবিতন্ডা সত্ত্বেও ইউক্রেনের জন্য ট্রাম্পের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই মতপার্থক্যে কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্ররা আরও বিস্মিত হয়েছে এবং এই যুদ্ধের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের নতুন অবস্থানের সঙ্গে তারা খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে।
কিয়েভের ‘রেয়ার খনিজ” সম্পর্কে কোন চুক্তি স্বাক্ষর না করেই জেলেন্সকি হোয়াইট হাউস ত্যাগ করলেও, তিনি জোর দিয়েই বলেন যে “নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রথম ধাপ হিসেবে” তিনি এখনও এটি স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত আছেন।
সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এক্স ’এর একটি পোস্টে তিনি বলেন,“ প্রসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া আমাদের জন্য খুবই জরুরি। তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান, কিন্তু আমাদের চাইতে বেশি করে শান্তি আর কেউ চায় না”।
রবিবার জেলেন্সকি কিয়েভের ইউরোপীয় সমর্থকদের সঙ্গে একটি জরুরি আলোচনায় যোগ দিবেন যেখানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও থাকবেন।
ট্রাম্প ইউরোপকে হতবাক করে দেন যখন তিনি ইউক্রেনের ব্যাপারে একটি চুক্তি করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শরণাপন্ন হন।
কিয়েভ ও ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে ইউক্রেনের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের এই আকস্মিক পরিবর্তন এবং পুতিনের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া করার চেষ্টা ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক নেটো জোটকে নাড়িয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র নেটোর প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে কী না সেই আশংকার প্রেক্ষাপটে , ব্রিটেনে রবিবারের বৈঠকে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হবে।