অন্তর্বর্তী সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ আগেই দিয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বিএনপি হয়তো নির্বাচনের একটি তারিখ চাচ্ছে।
শনিবার (১ মার্চ) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
চলতি মাসের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল আলম বলেন, "আমরা আবারও বলছি, নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি হয়তো একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ চাচ্ছে। আমরা বলে দিয়েছি, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে যদি দলগুলো মনে করে কম সংস্কার করে তাড়াতাড়ি নির্বাচনের দিকে দেশ ধাবিত হবে, তাহলে সেটা ডিসেম্বরের মধ্যেই হবে।"
"আর যদি রাজনৈতিক দলগুলো চায় যে আরও কিছু সংস্কার হওয়ার পর নির্বাচন হোক, তাহলে আরও তিন মাস দেরি হতে পারে। কিন্তু এপ্রিলের পরে থেকে কালবৈশাখীর মৌসুম শুরু হয়। বৃষ্টির মৌসুম শুরু হয়ে যায়। এই সময়টা নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত নয়।"
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর যে সংলাপ হওয়ার কথা, সেটা কবে নাগাদ শুরু হবে—জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, "আশা করছি, খুব শিগগিরই এটা শুরু হবে।"
নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থানে অসন্তুষ্ট বিএনপি নেতৃত্ব
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন নিয়ে টাল-বাহানা করছে।
রাজধানীর বেইলি রোডে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নির্বাচন সবার আগে, তারপরই স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম সভায় বসেছিলেন কমিশনের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে তিনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন। সংস্কার প্রতিবেদনগুলো নিয়ে আলোচনার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। এতে দলগুলো কমিশনগুলোর সঙ্গে কথা বলবে, এরপর একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।”
তিনি বলেন, “এটিই ছিল আজকের (বৈঠকের) মূল কথা ও প্রাথমিক আলোচনা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে কথা বলেছেন। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের জন্য ঐকমত্য তৈরি হবে; সেটার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
জাতীয় নাকি স্থানীয় নির্বাচন—কোনটি আপনারা আগে চাচ্ছেন, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, জাতীয় নির্বাচন সবার আগে হতে হবে, তারপরে স্থানীয় (সরকার) নির্বাচন।”
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে কিনা; খুব দ্রুতই সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত আসবে বলে ১৮ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নিরাপরাধ আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমা চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
ডিসেম্বরে হতে পারে নির্বাচনঃ প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে জার্মানির সহায়তা কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সরকার চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্বাচন দিতে পারে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জার্মান সরকারের কমিশনার জারাহ ব্রুন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্য আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই। জাতীয় নির্বাচনকে সফল করতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।”
জার্মান সরকারের কমিশনারকে ডঃ ইউনূস বলেন, ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে জার্মানির সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়তে চায় বাংলাদেশ।
নির্বাচনের বিষয়ে সেনাপ্রধানের বক্তব্য
এদিকে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান বলেছেন, “আমরা দেশে একটা ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশনের জন্য (সামনের) দিকে ধাবিত হচ্ছি। তার আগে যেসব সংস্কার করা প্রয়োজন, অবশ্যই সরকার এদিকে হেল্প করবে।”
২০০৯ সালে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতর পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে ২৫ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, “আমি যতবারই ডঃ ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি হি কমপ্লিটলি অ্যাগ্রিজ উইথ মি, দেয়ার শুড বি ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশন অ্যান্ড দ্যাট ইলেকশন শুড বি উইদিন ডিসেম্বর অর... (আমি যতবারই ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি তিনি সম্পূর্ণভাবে আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হওয়া উচিত এবং সেই নির্বাচন হওয়া উচিত ডিসেম্বরের মধ্যে বা...)। যেটা আমি প্রথমেই বলেছিলাম যে ১৮ মাসের মধ্যে একটা ইলেকশন। আমার মনে হয়, সরকার সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে। ডঃ ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যে দেশটাকে ইউনাইটেড রাখতে। কাজ করে যাচ্ছেন উনি, তাকে আমাদের সাহায্য করতে হবে, উনি যেন সফল হতে পারেন। সেদিকে আমরা সবাই চেষ্টা করব। আমরা একসাথে ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব।”