অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

 
ট্রাম্প-জেলেন্সকি বৈঠকে উচ্চকন্ঠে বাক্যবিনিময়, ইউক্রেনের সাথে চুক্তি হলো না

ট্রাম্প-জেলেন্সকি বৈঠকে উচ্চকন্ঠে বাক্যবিনিময়, ইউক্রেনের সাথে চুক্তি হলো না


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির মধ্যে অনুষ্ঠিত যে বৈঠক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে রূপ নেয়। ওয়াশিংটন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির মধ্যে অনুষ্ঠিত যে বৈঠক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে রূপ নেয়। ওয়াশিংটন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির মধ্যে অনুষ্ঠিত যে বৈঠকের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের ’রেয়ার’ খনিজ সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান তা শেষ পর্যন্ত দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে পর্যবসিত হয় এবং ট্রাম্প জেলেন্সকিকে বলেন, “হয় আপনি চুক্তি করবেন, নইলে আমরা এ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি”।

বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প এ রকম আভাস দেন যে প্রস্তাবিত চুক্তিটি হচ্ছে না।

ট্রাম্প লেখেন, “আমি বুঝতে পেরেছি যে আমেরিকা সম্পৃক্ত থাকলে প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকি শান্তির জন্য প্রস্তুত নন কারণ তিনি মনে করেন আমাদের সম্পৃক্ততা তাকে দরকষাকষিতে বড় রকমের সুযোগ করে দেয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তার মর্যাদাপূর্ণ ওভাল অফিসে অসম্মানিত করেছেন। তিনি যখন শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, তিনি ফিরে আসতে পারেন”।

ওভাল অফিসের এই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় কয়েক ডজন আমেরিকান ও ইউক্রেনীয় সাংবাদিক প্রত্যক্ষ করেন। বৈঠকের প্রায় ৪০ মিনিটের সময়ে জেলেন্সকি যখন ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখলের কথা উত্থাপন করেন, তখন এই বৈঠক তর্কাতর্কিতে পরিণত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তৎক্ষণাৎ জেলেন্সকির সমালোচনা করে, তাকে “অপপ্রচারমূলক সফর” আয়োজন করার জন্য অভিযুক্ত করেন।

তিনি জেলেন্সকিকে বলেন, “আমি মনে করি ওভাল অফিসে এসে আমেরিকান মিডিয়ার সামনে আপনার এই অভিযোগ তোলা অসম্মানজনক।"

ভ্যান্স ও ট্রাম্প উভয়ই ইউক্রেনের এই নেতাকে এই বলে অভিযুক্ত করেন যে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে তার দেশ যে সহায়তা পেয়েছে তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ নন।

জেলেন্সকি যখন পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তখন ট্রাম্প উচ্চ কন্ঠে বলেন, “আপনার হাতে এখন সেই তুরুপের তাশ নেই। আপনি লক্ষ লক্ষ লোকের জীবন নিয়ে বাজি খেলছেন। আপনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বাজি ধরছেন”।

জেলেন্সকি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন এবং পূর্ব নির্ধারিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়।

জেলেন্সকির জবাব

এই বৈঠক আকস্মিক ভাবে বন্ধ হওয়া সত্বেও, ইউক্রেনের নেতা আমেরিকান জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের উদ্দেশে সামাজিক মাধ্যমের আশ্রয় নেন।

তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স প্ল্যাটফর্মে বলেন, “ধন্যবাদ আমেরিকা। ধন্যবাদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস ও আমেরিকান জনগণ। ইউক্রেনের প্রয়োজন ন্যায় সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি, আর আমরা ঠিক সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।”

‘রেয়ার’ খনিজ চুক্তি

বৈঠক শুরুর আগেই ট্রাম্প বলেন যে তিনি জেলেন্সকির সঙ্গে এই চুক্তি সম্পাদনের কাছাকাছি রয়েছি। বাহ্যত বিব্রত জেলেন্সকিকে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সামনে একটি খুব ন্যায়সঙ্গত চুক্তি রয়েছে, আর আমরা সেটি পাবার জন্য পথ চেয়ে আছি, (আমরা) খুঁড়বো, খুঁড়বো, খুঁড়বো এবং কাজ করে যাবো এবং ‘রেয়ার আর্থ’এর কিছুটা পাবো"।

ওই প্রস্তাবিত চুক্তিতে যৌথ মালিকানা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধোত্তর পুণর্নির্মাণের বিধান রয়েছে যাতে ইউক্রেন দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে ভবিষ্যতে ৫০% রাজস্ব পাবে।

তবে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানান যে শুক্রবার এই চুক্তিটি সম্পাদন হয়নি।

রাশিয়া ও ইউক্রেনে প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প ও জেলেন্সকির মধ্যে প্রকাশ্যে এই আলোচনা ভেঙ্গে যাওয়ায় কোন কোন রুশ কর্মকর্তা উল্লাস প্রকাশ করেছেন।

রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সহ-সভাপতি দ্যমিত্রি মেদভেদেভ এক্স এ লেখেন, “এই উদ্ধত শুকরটি শেষ অবধি ওভাল অফিসে যথার্থ চপেটাঘাত খেয়েছে”।

মেদভেদেভ আরও বলেন যে ট্রাম্প “ঠিকই বলেছেন। কিয়েভ সরকার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বাজি ধরছে”।

জেলেন্সকির চিফ অফ স্টাফ, আদ্রি ইয়ারমার্ক ইউক্রেনের নেতাকে সমর্থন করেন।

ইয়ারমার্ক এক্স এ পোস্ট করেন, “আমাদের দেশের জন্য, যারা ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির পক্ষে তাদের সকলের জন্য প্রেসিডেন্ট লড়াই করছেন। এ রকম কোন প্রকৃত নিশ্চয়তা না থাকলে, যুদ্ধ ফিরে আসবে”।

ইউরোপের প্রতিক্রিয়া

ফ্রান্স, জার্মানি, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপীয় দেশের কর্মকর্তারা ইউক্রেনের সমর্থনে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাস এক্স এ’র পোস্টে লিখেছেন, “ইউক্রেনই ইউরোপ। আমরা ইউক্রেনের সাথে রয়েছি”।

কালাস বলেন, “আমরা ইউক্রেনের প্রতি আমাদের সমর্থন বৃদ্ধি করবো যাতে তারা আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াই অব্যাহত রাখতে পারে। আজ এটা পরিস্কার হয়ে গেছে যে মুক্ত বিশ্বের প্রয়োজন একজন নতুন নেতা। এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাটা আমাদের, ইউরোপীয়দের উপর নির্ভর করছে”।

XS
SM
MD
LG