ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার বলেছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করতে চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে তিনি ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা করেছেন; এই সমঝোতায় কিয়েভ যুক্ত থাকবে এবং ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী একে সাহায্য করবে।
হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার বৈঠকের পর স্টারমার বলেন, এই পরিকল্পনা “কঠিন ও ন্যায্য এক শান্তিতে পৌঁছবে; একে রূপ দিতে সাহায্য করবে শক্তি সমর্থিত ইউক্রেন যা (রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির) পুতিনের আরও আগ্রাসন রুখতে সাহায্য করবে।”
স্টারমার আরও বলেন, “আগ্রাসনকারীকে সুবিধা” দেয় এমন কোনও সমঝোতা শান্তির দিকে যেতে পারে না; তার কথায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, “রাশিয়াই আগ্রাসনকারী।”
যৌথ সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে স্টারমার বলেন, “আক্রমণকারী নয়, শান্তি বজায়কারীদের পক্ষেই ইতিহাসের থাকা দরকার—এ বিষয়ে আমরা সহমত হয়েছি।”
অন্যান্য ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করে স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য তার মিত্রদের সঙ্গে মিলিতভাবে শান্তিরক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করতে প্রস্তুত “কারণ দীর্ঘস্থায়ী শান্তির এটাই একমাত্র উপায়।”
তবে, কোনও রকম নিরাপত্তাগত নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প অঙ্গীকার করেননি; সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি (স্টারমারের এই শর্তের প্রয়োজন রয়েছে) সম্পাদনে ইউরোপীয় শান্তিরক্ষীদের সাহায্য করতে প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্রের “সহায়তা”র বিষয়েও তিনি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
সংবাদ সম্মেলনের সময় ট্রাম্প বলেন, “চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি শান্তিরক্ষা নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি চাই কাজগুলি করা হোক। আমি এই বিষয়ে অশুভ ইঙ্গিত দিতে চাই না।”
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিয়েভের সঙ্গে তিনি যে চুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন, সেই চুক্তির আদলে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে পারে; এই চুক্তি হলে ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদ লাভ করতে সক্ষম হবে আমেরিকা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য করতে ইউক্রেনকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন যে অর্থ দিতেন তা উদ্ধার করা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে কিয়েভ বা ইউরোপীয় মিত্রদের বাদ দিয়ে সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্তকে “সাধারণ বোধ” হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ট্রাম্প বলেছেন, “যদি শান্তি চান, তাহলে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”