যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর আগামী সপ্তাহে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন তিনি। তার মতে এই দুই প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহ রুখতে এখনও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
পাশাপাশি ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশাল সমাজ মাধ্যমে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা চীনের পণ্যের উপর আরও ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে আগামী মঙ্গলবার থেকে। চলতি মাসের শুরুতে তার চাপানো ১০ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে এই বর্ধিত শুল্ক যোগ করা হবে। চীনও দ্রুত ট্রাম্পের প্রথমবার শুল্ক চাপানোর পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি দ্রব্যের উপর সমহারে শুল্ক চাপিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, “মেক্সিকো ও কানাডা থেকে অত্যন্ত ব্যাপক ও অগ্রহণযোগ্য হারে আমাদের দেশে মাদক ঢুকছে। এই মাদকের (এগুলির অনেকটাই ফেন্টানিল আকারে) একটা বড় অংশ তৈরি ও সরবরাহ করছে চীন।”
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা ও মেক্সিকোর উপর শুল্ক ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম বলেছিলেন, সে দেশের উত্তর সীমান্তে মাদক চোরাচালান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে তিনি ১০ হাজার সৈন্য পাঠাবেন; এই মন্তব্যের পর ট্রাম্প ৪ মার্চ পর্যন্ত শুল্কারোপ স্থগিত করেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, এই সমস্যা মোকাবিলা করতে তিনি একজনকে ফেন্টানিল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেবেন।
মেক্সিকোর বাণিজ্য-নির্ভর অর্থনীতি তাদের রপ্তানি দ্রব্যের ৮০ শতাংশই পাঠায় যুক্তরাষ্ট্রে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে শেইনবম বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছি আমরা,” তবে কোনও চুক্তি যদি না হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাতে পারে মেক্সিকো।
কানাডা থেকে আসা পণ্যের উপর ট্রাম্প যখন প্রথমবার ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তখন ট্রুডো বলেছিলেন, এটা “পুরোপুরি অন্যায্য” এবং কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি করা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়মের উপর ১২ মার্চ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
বুধবার নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি “খুব শীঘ্র” যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রপ্তানি দ্রব্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করবেন।
তবে, তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের নজর যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের অবাধ প্রবাহের দিকে।