অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

 
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সবসময় সজাগ-সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীরের

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সবসময় সজাগ-সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীরের


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সবসময় সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি থানা পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন তিনি।

এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারে ও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, ফোর্স ও টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত চেকপোস্টগুলোও কাজ করছে। যৌথবাহিনীর অপারেশনও ভালোভাবে চলছে।

থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে। থানাসমূহ সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা দেখতেই তিনি পরিদর্শন করছেন বলে জানান।

উপদেষ্টা আরও বলেন, "আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোরের দিকে দায়িত্বে শিথিলতা দেখায়। এ সুযোগে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন এসময়েও সজাগ ও সতর্ক থাকে।"

চলমান যৌথ অভিযান আর কতদিন চলবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে যৌথ অভিযান বন্ধ করা হবে। তবে অন্য অভিযান চলমান থাকবে।

তিনি আরও জানান, বুধবার গুলশান থানায় দায়িত্বে অবহেলা করায় একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

উপদেষ্টা তার বারিধারার ডিওএইচএসের বাসা থেকে বের হয়ে ইসিবি চত্বর, কালশী, পল্লবী, মিরপুর-১০ হয়ে মিরপুর থানায় পৌঁছান। পরিদর্শন শেষে সেখান থেকে মিরপুর-১ হয়ে দারুসসালাম থানায় যান। দারুসসালাম থানা থেকে টেকনিক্যাল মোড়, শ্যামলী হয়ে আদাবর থানা পরিদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে মোহাম্মদপুর থানায় যান। মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে ধানমন্ডি ২৭, সংসদ ভবন, বিজয় সরণি, মহাখালী, বনানী হয়ে বারিধারার বাসায় ফিরে আসেন তিনি।

থানাগুলো পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা থানার অভ্যর্থনা কক্ষ, হাজতখানাসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন। তিনি ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এসময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন।

পথিমধ্যে তিনি জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার চেকপোস্ট ও কালশী মোড় চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলেন। তা ছাড়া, উপদেষ্টা মিরপুর থানা মোড় ও টেকনিক্যাল মোড়ে উপস্থিত সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলন এবং তার পদত্যাগ চেয়ে ঢাকায় বিক্ষোভ

২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “যেভাবেই হোক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করবেন।”

তিনি দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশ থেকে স্থানান্তর হওয়া টাকা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে তারা।”

নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের মা-বোনদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সবসময় সজাগ আছি। আইনশৃঙ্খলা আমি এসে যেভাবে পেয়েছি, তার চেয়ে উন্নতি হয়েছে কি না, সেটা আপনাদের ওপরই ছেড়ে দিলাম।”

এ সময় পদত্যাগ এবং তার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তিনি বলেন, “যে কারণে আমাকে পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে, ওই কারণগুলো যদি আমি উন্নতি করে দিতে পারি, তাহলে তো আর কোনো পদত্যাগের প্রশ্ন ওঠে না। তারা তো চাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন উন্নতি হয়, আমি সেই ব্যবস্থা করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে এবং এটা আরও উন্নতি হতে থাকবে।”

সারাদেশে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে, কিন্তু অপরাধীদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “গ্রেফতার কিন্তু করা হচ্ছে। তবে যে পরিমাণ গ্রেফতার করা উচিত, সেই পরিমাণ হয়তো হচ্ছে না। যেমন, বাসে ডাকাতির জন্য ইতিমধ্যে তিনজনকে সাভার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হচ্ছে এবং গ্রেফতার চলতে থাকবে।”

তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলার পরে ঢাকার রাস্তায় ২৪ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) তার পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ হয়েছে।

‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’–এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা, '২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ক্ষমা চেয়ে' পদত্যাগ করতে বলেন।

পরে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে: সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিজেদের মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’ বন্ধ করা না হয়; তাহলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে বলেও মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার নেপথ্যে কিছু কারণ আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে—আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন-আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটি অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি, সেহেতু তারা ভালোভাবেই জানে যে এই সময় এসব অপরাধ করা গেলে এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সে কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে।”

ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, “আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি, তাহলে অবশ্যই এটা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই—এগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ অতীতে করেছে। খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজ করেছে। আজ দেশের যে স্থিতিশীলতা, দেশকে যে এতগুলো বছর স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এটার কারণ হচ্ছে এই সশস্ত্র বাহিনীর বহু সেনা সদস্য, সিভিলিয়ান—সবাই বিলে এই সংস্থাগুলোকে কার্যকর রেখেছে।”

XS
SM
MD
LG