অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

 
মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর

মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

আইন কাউকে হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সারা দেশে মানুষের নিরাপত্তায় পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। এজন্য আমি ভোরে রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখতে বেরিয়েছিলাম।”

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাভারের রাজালাখ এলাকায় হর্টিকালচার সেন্টারে কৃষকের শীতল ঘর কার্যক্রম ও বিএআরসির তৈরি খামারি মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, "সাধারণত ভোরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড হয়ে থাকে। শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় অনেক শ্রমিক অসন্তোষ ছিল। এখন আর সেই অসন্তোষ নেই। এটা কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।"

উপদেষ্টা বলেন, আশুলিয়া, সাভার ধামরাইয়ে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও দায়িত্বরত। এ ছাড়াও, কৃষি জমি রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ডা. মো. এমদাদ উল্লাহ মিয়াসহ পুলিশ ও অন্য দফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলন এবং তার পদত্যাগ চেয়ে ঢাকায় বিক্ষোভ

এদিকে ২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “যেভাবেই হোক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করবেন।”

তিনি দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশ থেকে স্থানান্তর হওয়া টাকা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে তারা।”

নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের মা-বোনদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সবসময় সজাগ আছি। আইনশৃঙ্খলা আমি এসে যেভাবে পেয়েছি, তার চেয়ে উন্নতি হয়েছে কি না, সেটা আপনাদের ওপরই ছেড়ে দিলাম।”

এ সময় পদত্যাগ এবং তার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তিনি বলেন, “যে কারণে আমাকে পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে, ওই কারণগুলো যদি আমি উন্নতি করে দিতে পারি, তাহলে তো আর কোনো পদত্যাগের প্রশ্ন ওঠে না। তারা তো চাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন উন্নতি হয়, আমি সেই ব্যবস্থা করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে এবং এটা আরও উন্নতি হতে থাকবে।”

সারাদেশে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে, কিন্তু অপরাধীদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “গ্রেফতার কিন্তু করা হচ্ছে। তবে যে পরিমাণ গ্রেফতার করা উচিত, সেই পরিমাণ হয়তো হচ্ছে না। যেমন, বাসে ডাকাতির জন্য ইতিমধ্যে তিনজনকে সাভার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হচ্ছে এবং গ্রেফতার চলতে থাকবে।”

তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলার পরে ঢাকার রাস্তায় ২৪ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) তার পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ হয়েছে।

‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’–এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা, '২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ক্ষমা চেয়ে' পদত্যাগ করতে বলেন।

পরে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে: সেনাপ্রধান

নিজেদের মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। যদি "কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি" বন্ধ করা না হয়; তাহলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে বলেও মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, "দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার নেপথ্যে কিছু কারণ আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে—আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন-আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটি অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি, সেহেতু তারা ভালোভাবেই জানেন যে এই সময় এসব অপরাধ করা গেলে এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সে কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে।"

ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, "আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি, তাহলে অবশ্যই এটা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই—এগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ অতীতে করেছে। খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজ করেছে। আজ দেশের যে স্থিতিশীলতা, দেশকে যে এতগুলো বছর স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এটার কারণ হচ্ছে এই সশস্ত্র বাহিনীর বহু সেনা সদস্য, সিভিলিয়ান—সবাই বিলে এই সংস্থাগুলোকে কার্যকর রেখেছে।"

XS
SM
MD
LG