অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

 
চীনের মালবাহী জাহাজগুলোর ওপর উঁচু হারে ফি আরোপের প্রস্তাব দিলো ট্রাম্প প্রশাসন

চীনের মালবাহী জাহাজগুলোর ওপর উঁচু হারে ফি আরোপের প্রস্তাব দিলো ট্রাম্প প্রশাসন


ফাইল—চীনের জিয়াংসু প্রদেশে তাইক্যাং বন্দরের একটি নির্মাণাধীন জাহাজ দেখা যাচ্ছে (১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)
ফাইল—চীনের জিয়াংসু প্রদেশে তাইক্যাং বন্দরের একটি নির্মাণাধীন জাহাজ দেখা যাচ্ছে (১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)

ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর উচ্চ হারে, শাস্তিমূলক ফি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে যা মূলত চীনা কোম্পানি বা চীনের শিপইয়ার্ডে নির্মিত নৌযানের ওপর আরোপিত হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন নাটকীয়ভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের হিসেব বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নতুন এই নীতিমালায় চীনাদের মালিকানাধীন মালবাহী জাহাজ ও তৃতীয় পক্ষের দেশগুলোর মালিকানাধীন, কিন্তু চীনে নির্মিত নৌযানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে প্রতিবার প্রবেশের ক্ষেত্রে দশ লাখ ডলার বা তার চেয়েও বেশি ফি ধার্য করা হয়েছে।

বড় কনটেইনারবাহী জাহাজগুলো প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় একাধিকবার আমেরিকান বন্দরে প্রবেশ করে। এই জাহাজগুলোকে এখন থেকে প্রতিবার বন্দরে প্রবেশ করার সময় এই উচ্চ হারের ফি পরিশোধ করতে হবে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের কার্যালয় (ইউএসটিআর) এই প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। এর আগে, বেশ কয়েকটি আমেরিকান শ্রম ইউনিয়ন অভিযোগ এনেছে, চীন অন্যায্যভাবে আন্তর্জাতিক জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বিপর্যস্ত করেছে। এই অভিযোগের সূত্রে পরিচালিত তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নতুন ফি প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছে ইউএসটিআর।

১৯৭৪ সালের বাণিজ্য নীতির ৩০১ ধারার আওতায় পরিচালিত এই তদন্ত থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে, বৈশ্বিক বাজারে “আধিপত্য স্থাপন” করার লক্ষ্যে চীন সরকার স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে ভর্তুকি দেওয়ার নীতিমালা অবলম্বন করেছে।

বাজারে ক্রমবর্ধমান আধিপত্য

তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ শিল্পে চীন বিস্ময়করভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৯৯ সালে টনের হিসাবে মোট জাহাজ নির্মাণের পাঁচ শতাংশ চীনের দখলে ছিল। ২০২৩ সাল নাগাদ সংখ্যাটি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “নিজেদের স্থানীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত প্রক্রিয়ায় ৩০১ ধারার অপব্যবহার করা হয়েছে, যা ডব্লিউটিওর (বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা) আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এর মাধ্যমে বহুপাক্ষিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে আরও বড় আকারে অবমাননা করা হয়েছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত সত্য ও বহুপাক্ষিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রেখে শিগগির এসব অন্যায় আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানাই।”

অর্থনৈতিক যুক্তি অস্পষ্ট

পিটারসন ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের সিনিয়র ফেলো ম্যারি লাভলি জানান, এই প্রস্তাবের পেছনে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

“সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এটা এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নীতির সঙ্গে যুক্ত নয় যা আমেরিকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ভোক্তাদের উপকারে আসবে”, বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত থাকবে, কিন্তু সেগুলো এমন সব জটিল প্রক্রিয়ায় হবে যা সময় ও ব্যয় বাড়াবে। লাভলি পূর্বাভাস দেন, অনেক জাহাজিকরণ সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে তাদের পণ্যগুলো কানাডা বা মেক্সিকোর বন্দরে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিবে। পরবর্তীতে সেগুলোকে ট্রাকে করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে।

XS
SM
MD
LG