কিউবার গুয়ান্তানামো বে নৌঘাঁটি খালি করার মাত্র কয়েকদিন পর 'অতি বিপজ্জনক' হিসেবে চিহ্নিত অভিবাসীদের গুয়ান্তানামো বে কারাগারে পাঠানো শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ভয়েস অফ আমেরিকাকে নিশ্চিত করেছেন যে, অবৈধ অভিবাসী বহনকারী একটি সি-১৩০ সামরিক কার্গো বিমান টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিস থেকে রবিবার গুয়ান্তানামো বে-তে পৌঁছেছে।
দ্বিতীয় একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, ১৭ জন অভিবাসীকে 'অতি বিপজ্জনক' বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং তাদেরকে ঘাঁটির আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
উভয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভয়েস অফ আমেরিকার সাথে নির্বাসন অভিযান নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কার প্রচেষ্টার নেতৃত্বদানকারী হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) গুয়ান্তানামো বে-তে সর্বশেষ দফায় পাঠানো বন্দীদের পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে সে সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
অভিবাসীদের বহনকারী সর্বসাম্প্রতিক ফ্লাইটটি এমন সময় সেখানে গিয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গণহারে বিতাড়নের সমর্থনে সামরিক বাহিনীর প্রচেষ্টা পর্যালোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার গুয়ান্তানামো বে-তে যাবার কথা আছে।
পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হেগসেথ ওই ঘাঁটিতে মাইগ্রেন্ট অপারেশন্স সেন্টার ও গুয়ান্তানামো বে ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিজসহ সব ধরনের মিশন কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফিং পাবেন।
গত সপ্তাহে 'আইস' ঘোষণা করে, তারা গুয়ান্তানামো বে থেকে আটক ১৭৭ জন অভিবাসীকে হন্ডুরাসে নিয়ে গেছে। সেখান থেকে তাদের ভেনিজুয়েলা সরকার গ্রহণ করবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, আটককৃতদের মধ্যে ১২০ জনের বেশি বিপজ্জনক অপরাধী রয়েছেন। এদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার রাস্তার গ্যাং ট্রেন ডি আরাগুয়ার সদস্যরাও রয়েছে। এই গ্যাংটিকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বৃহস্পতিবার নির্বাসিত আরও প্রায় ৫০ জনকে ঘাঁটির অভিবাসী স্থাপনায় রাখা হয়েছিল। এই স্থাপনা অসহিংস ব্যক্তিদের রাখার জন্য বানানো হয়।