অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

 
ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনাটি 'সঠিক নয়' বলে দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের 

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনাটি 'সঠিক নয়' বলে দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের 


বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী `ইউনিক রোড রয়েলস' নামক চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনাটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার থেকে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত এক ভিডিও ক্লিপে বাসটির এক নারী যাত্রীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, বাসটির এক নারী যাত্রী বলছেন, “বাসটিতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, তবে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

বাসে কী হয়েছিল সেদিন রাতে?

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বাসটির যাত্রীরা বলেন, সেদিন ঢাকার গাবতলী থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি রাজশাহীর দিকে রওনা দিলে একদল যাত্রীবেশী ডাকাত রাত একটার দিকে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে বাসটিকে তারা টাঙ্গাইল, গাজীপুরের কালিয়াকৈর-কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে ঘোরায়।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন বলছে, এসময় তারা যাত্রীদের কাছে থাকা বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার, টাকা, মোবাইল ইত্যাদি লুট করে নেয়। নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং অনেক যাত্রীকে মারধরও করে।

ওইদিন রাতে যারা বাসটিতে ছিলেন, তাদের কয়েকজন বিবিসি বাংলার কাছে বক্তব্য দেন, "সেই রাতে সেখানে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে"।

ঢাকার আরেক সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোও বাসের কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ উদ্ধৃত করে লিখেছে, "বাসে দুই নারীর শ্লীলতাহানি হয়েছে"।

পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে ডাকাতরা নন্দন পার্ক এলাকায় বাস থেকে নেমে যায়।

'ধর্ষণের' বিচার চেয়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সমালোচনা, ৩ জন গ্রেফতার

পরের দিন বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের ‘যৌন নিপীড়নের’ ঘটনায় রাজধানীর আসাদগেইট ও জিগাতলা এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন কিছু শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা বাসে নারী যাত্রীকে 'ধর্ষণের অভিযোগের' বিচারের দাবি জানিয়ে মিছিল করে।

সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ধর্ষণ, ছিনতাই, খুন ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরাও।

পরে ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অভিযোগ স্বীকার করেছে বলেও পুলিশ দাবি করেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান দাবি করেন, "ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি, তবে শ্লীলতাহানি হয়েছে"।

এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বড়াইগ্রাম থানার ওসি সিরাজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নাটোর জেলা পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

XS
SM
MD
LG