জরুরি এক সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট)।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সকল শিক্ষার্থীকে বুধবারের মধ্যে ক্যাম্পাস ও হল ত্যাগ করতে।
১৯ ফেব্রুয়ারির এক সিন্ডিকেটের সভায় শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে বলছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
বুধবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যর্থতার দায় স্বীকার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবিতে আল্টিমেটাম দেয় শিক্ষার্থীরা।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া, হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় এবং ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদের দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
কুয়েটের ঘটনা তৈরি করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশৃঙ্খল মব: ছাত্রদল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে জাতীযতাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকনাছির উদ্দীন নাছির খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সংঘর্ষ প্রসঙ্গে বলেছেন, “ঘটনাটি তৈরি করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশৃঙ্খল মব। এর নেতৃত্ব দিয়েছেন কুয়েট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. ওমর ফারুক। কেন্দ্রীয়ভাবে সেটিমনিটরিং করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক বাআহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।”
তিনি বলেন, "ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ অগাস্টের পরাজিত শক্তি এবং ৫ অগাস্টের পূর্ববর্তী সময়ে যারা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে তাদের সব অপকর্মের বৈধতা প্রদানে ভূমিকা রেখেছিল, সেসব শিক্ষার্থী নামধারী অপশক্তি বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও প্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক চর্চায় বাধাগ্রস্ত করে মব সংস্কৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি করছে এবং নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদেরপ্রাপ্য গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকে অতীতের ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী সংগঠনের ন্যায় অগণতান্ত্রিক আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।"
“এসব ঘটনার ধারাবাহিকতার পরিপ্রেক্ষিতেই গতকাল খুলনা প্রকৌশলও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে সেটি নিয়ে অনলাইনে ও অফলাইনে সত্য ঘটনাকে আড়াল করে অপপ্রচারের মাধ্যমে ছাত্রদলের নামে মিথ্যা অপবাদ চারিদিকে ছড়ানো হচ্ছে।”
ছাত্রদলকে সতর্ক করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
এদিকে কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলকে সতর্ক করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, “যারা ছাত্রলীগ হয়ে উঠতে চাইবে, তাদের পরিণতি ছাত্রলীগের মতোই হবে। শিক্ষার্থীদের ভাষায় কথা বলুন, তাদের মনোভাব বুঝে রাজনীতির আহ্বান জানাই। কিন্তু ক্যাডার পলিটিক্স করতে চাইলে তাদের প্রতিহত করতে হবে। আপনারা (ছাত্রদল) মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না।”
কুয়েটে সংঘর্ষের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।