অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

 
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিতর্কের পর দুটি প্রস্তাব অনুমোদন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিতর্কের পর দুটি প্রস্তাব অনুমোদন


নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘের সদর দফতরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রদূতরা ভোট দিচ্ছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।
নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘের সদর দফতরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রদূতরা ভোট দিচ্ছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে দুইটি প্রস্তাব ক্ষীণ সংখ্যা গরিষ্ঠতায় পাস করেছে। ইউক্রেন এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করে এবং অন্যটি করে যুক্তরাষ্ট্র।

এই বৈঠকের আগের সপ্তাহগুলোতে শুধু ইউক্রেনের খসড়া প্রস্তাব বিবেচনায় ছিল, যেটা ১৯৩-সদস্যের সংস্থায় অতীতে পাস করা প্রস্তাবকে প্রতিফলন করে। এই প্রস্তাবে “ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন” এর উল্লেখ ছিল এবং জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী এবং “আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের” মধ্যে “ন্যায্য এবং টেকসই শান্তির” আহ্বান জানানো হয়।

তারপর শুক্রবার পরের দিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব খসড়া নিয়ে আসে, যার শিরোনাম ছিলঃ “শান্তির পথ,” যেখানে “দ্রুত সংঘাত অবসানের” আহ্বান জানানো হয় এবং “রাশিয়ান ফেডেরেশন এবং ইউক্রেনের মধ্যে টেকসই শান্তির আহ্বান জানানো হয়।” প্রস্তাবে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসনের কথা বলা হয়নি।

জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের খসড়াকে “একটি ভালো পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেন।

“শান্তির পথে গতি অর্জন করার জন্য এটা আমাদের সুযোগ,” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব যাতে যুদ্ধের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের ক্ষতি না করতে পারে, সেই পথ বের করার জন্য ইউরোপীয় কূটনীতিকরা সপ্তাহান্তে বৈঠক করেন। সোমবার তারা যুক্তরাষ্ট্রের খসড়ায় তিনটি সংশোধনীর প্রস্তাব করেন। সব সংশোধনী সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-প্রতিনিধি ডরোথি শেয়া নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য রাখছেন। ফাইল ফটো।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-প্রতিনিধি ডরোথি শেয়া নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য রাখছেন। ফাইল ফটো।

তারা যুক্তরাষ্ট্রের খসড়ায় নতুন ভাষা যোগ করেন। তারা “রুশ-ইউক্রেন সংঘাত” শব্দগুলির বদলে “ইউক্রেনে রাশিয়ান ফেডেরেশনের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন” যোগ করেন। একটি নতুন প্যারাগ্রাফ ঢুকানো হয় যেখানে বলা হয়ঃ “ইউক্রেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের ভেতরে, রাষ্ট্রীয় জলসীমা সহ, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং একতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করছে।” এই প্যারাগ্রাফে জাতিসংঘ সনদ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সমর্থন করে ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংশোধিত প্রস্তাব যখন ভোটে দেয়া হয়, ওয়াশিংটন তাদের নিজেদের প্রস্তাবে ভোট দানে বিরত থাকে। পাস হওয়া প্রস্তাবে ৯৩ রাষ্ট্র পক্ষে, ৮ বিপক্ষে ভোট দেয় এবং ৭৩টি রাষ্ট্র ভোট দানে বিরত থাকে।

“এই সংশোধনীগুলো যুদ্ধ বন্ধ না করে বাকযুদ্ধ চালাতে চায়,” যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ডরোথি শেয়া বলেন।

রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের খসড়ার বিপক্ষে ভোট দেয়। কারণ, তাদের ভাষায়, সংঘাতের মূল কারণগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য প্রস্তাবের ভাষা পরিবর্তন করতে তাদের সংশোধনী পরিষদ প্রত্যাখ্যান করেছে।

“এর আসল লক্ষ্য বিকৃত হয়ে গেছে,” রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে স্বাগত জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এটার পরে অন্যান্য নতুন উদ্যোগ নেয়া হবে।

ফাইল ফটোঃ জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া।
ফাইল ফটোঃ জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া।

“আমার মনে হয়, আজকের পর আমাদের আমেরিকান সহকর্মীরা নিজেরাই দেখতে পেয়েছেন যে, ইউক্রেনে শান্তির পথ সহজ হবে না, এবং এখানে অনেকেই আছে যারা নিশ্চিত করবে যে যত দিন সম্ভব তত দিন যাতে শান্তি না আসে,” নেবেনজিয়া বলেন।

ইউক্রেনের প্রস্তাবের পক্ষে ছিল ৯৩ রাষ্ট্র, ১৮ বিপক্ষে এবং ৬৫ রাষ্ট্র ভোট দানে বিরত থাকে। যুদ্ধের তিন বছরে সাধারণ পরিষদে এটাই ছিল ইউক্রেনের পক্ষে সবচেয়ে দুর্বল সমর্থন।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়, যেমন দেয় রাশিয়া, তার মিত্র বেলারুশ এবং উত্তর কোরিয়া, কয়েকটি আফ্রিকান দেশ, ইউরোপের হাঙ্গেরি এবং ইসরায়েল।

সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব মানতে কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে তার নৈতিক মূল্য রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মূল খসড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সোমবার পরের দিকে ভোটের জন্য পেশ করবে। অনুমোদনের জন্য ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে, তবে যদি স্থায়ীয় সদস্যদের – ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র - কেউ ভিটো না দেয়।

XS
SM
MD
LG