জার্মানির সম্ভাব্য পরবর্তী চ্যান্সেলর ফ্রিড্রিখ মেরটজ সোমবার একটি জোট সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। জাতীয় নির্বাচনে তার রক্ষণশীল ব্লক জয়লাভ করেছে। উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র বামপন্থী দলগুলো ক্ষুব্ধ ভোটারদের সমর্থন পেয়েছে।
ক্ষমতায় থাকার পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা ফ্রিড্রিখ মেরটজ-এর নেই। তিনি ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির সমস্যা,অভিবাসন নিয়ে বিভক্ত সমাজ, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে আটকে পড়া ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের ত্রিমুখী জোট ভেঙে যাওয়ার পর কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। এএফডির সাথে ৬৯ বছর বয়সী ফ্রিড্রিখ মেরটজ এখন কোয়ালিশন গঠন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার মুখোমুখি ।
ফ্রিড্রিখ মেরটজ তার নীতিমালার প্রাথমিক ইঙ্গিতে জয়ের পরই যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওয়াশিংটন থেকে উদ্ভূত “চূড়ান্তভাবে আপত্তিকর” মন্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। এটিকে ফ্রিড্রিখ মেরটজ রাশিয়ার শত্রুতামূলক হস্তক্ষেপের সাথে তুলনা করেন।
রবিবার তিনি বলেন, "আমার কাছে অগ্রাধিকার হবে ইউরোপকে যত দ্রুত সম্ভব শক্তিশালী করা, যাতে আমরা ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সত্যিকারের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারি।"
তার রক্ষণশীল ব্লক সিডিইউ/সিএসইউ ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। তারা উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির চেয়ে এগিয়ে আছে, যারা ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পায়।
মূলধারার দলগুলো অবশ্য এএফডির সাথে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। জার্মান নিরাপত্তা বাহিনী চরমপন্থার সন্দেহে তাদের ওপর নজরদারি চালায়। কিন্তু ধনকুবের ইলন মাস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যক্তিত্ব এএফডিকে সমর্থন করে।
এর মানে, নীতিগত পার্থক্য তুলে ধরার পর জোট গঠনের জন্য শোলজের মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসদের (এসপিডি) সাথে মেরটজকে আলোচনা করতে হবে।
তবে লেফট পার্টির সাবেক নেতা সারা ওয়াগেননেখট প্রতিষ্টিত নতুন বিএসডব্লিউ পার্টি নিম্নকক্ষে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশের সীমা অতিক্রম না করায় ফ্রিড্রিখ মেরটজকে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য গ্রিনস-এর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে না।