রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, "যেভাবেই হোক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করবেন"।
তিনি দাবি করেছেন, "আওয়ামী লীগের দোসররা ডেস্কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশ থেকে স্থানান্তর হওয়া টাকা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে তারা।"
মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, "আমাদের মা-বোনদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সব সময় সজাগ আছি। আইনশৃঙ্খলা আমি এসে যেভাবে পেয়েছি, তার চেয়ে উন্নতি হয়েছে কি না, সেটা আপনাদের ওপরই ছেড়ে দিলাম।"
এ সময় পদত্যাগ এবং তার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তিনি বলেন, "যে কারণে আমাকে পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে, ওই কারণগুলো যদি আমি উন্নতি করে দিতে পারি, তাহলে তো আর কোনো পদত্যাগের প্রশ্ন ওঠে না। তারা তো চাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন উন্নতি হয়, আমি সেই ব্যবস্থা করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে এবং এটা আরও উন্নতি হতে থাকবে।"
সারাদেশে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে, কিন্তু অপরাধীদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, "গ্রেপ্তার কিন্তু করা হচ্ছে। তবে যে পরিমাণ গ্রেপ্তার করা উচিত, সেই পরিমাণ হয়তো হচ্ছে না। যেমন, বাসে ডাকাতির জন্য ইতিমধ্যে তিনজনকে সাভার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার চলতে থাকবে।"
তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলার পরে ঢাকার রাস্তায় সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তার পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ হয়েছে।
‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’–এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা, '২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ক্ষমা চেয়ে' পদত্যাগ করতে বলেছেন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে এ আলটিমেটাম দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদৃতা রায়।
পরে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সভা শেষে তিনি এই কথা বলেন।