যুক্তরাষ্ট্রের দূত কিথ কেলোগ বৃহস্পতিবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেন্সকির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার তিন বছরব্যাপী যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং জেলেন্সকির বাক-বিতণ্ডার পর তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পেরেছেন কি না, না নিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে কিছু জানা যায় নি।
দৃশ্যত উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে জেলেন্সকি বৃহস্পতিবার বলেন যে, “ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সারা বিশ্বের জন্য ভাল হবে।”
জেলেন্সকি কিয়েভে বলেন যে তিনি “যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি, কীভাবে আমাদের যুদ্ধবন্দীদের ফিরিয়ে আনা যায়” এবং যদি যুদ্ধ শেষ হয় তাহলে ইউক্রেনের জন্য “কার্যকর গ্যারান্টি” নিয়ে ট্রাম্পের দূত কিথ কেলোগের সাথে “ফলপ্রসূ বৈঠক” করেছেন।
কেলোগ ইউক্রেনের রাজধানীতে আসার পর বলেন যে, তিনি জেলেন্সকির মতামত শোনার জন্য এসেছেন। এর আগে কিয়েভে কর্মকর্তারা, যুদ্ধ শেষ করার পথ বের করার লক্ষে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার কূটনীতিকদের বৈঠক থেকে ইউক্রেনকে বাদ দেয়ায়, ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
কেলোগ আর জেলেন্সকির বৈঠকের পর দু’জনের একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। কিন্তু ইউক্রেনীয়রা জানায় যে, আমেরিকানদের অনুরোধে সেটা বাতিল করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বুধবার ইউক্রেনকে তীব্র সমালোচনা করার পর প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে “দীর্ঘস্থায়ী শান্তি” প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে বৃহস্পতিবার কিয়েভে ট্রাম্পের দূতের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
জাতির উদ্দেশে সান্ধ্য ভাষণে জেলেন্সকি বলেছেন, "আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমেরিকার সঙ্গে বৈঠক ও সার্বিক সহযোগিতা গঠনমূলক হওয়া", "আমেরিকা ও ইউরোপ সঙ্গে থাকলে শান্তি প্রক্রিয়া আরও নিশ্চিত হতে পারে এবং সেটাই আমাদের লক্ষ্য।"
এ দিন সকালে ট্রাম্প ও জেলেন্সকি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকিকে “নির্বাচনহীন স্বৈরশাসক” বলে অভিহিত করেন এবং জেলেন্সকি অভিযোগ তোলেন, ট্রাম্প রুশ-প্রভাবিত “ভুল তথ্যের পরিসরে” বাস করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের বাইরে রক্ষণশীল চিন্তাধারার অ্যাক্টিভিস্টদের এক সমাবেশে বলেন যে, ট্রাম্প ইউক্রেনে “হত্যাযজ্ঞ বন্ধ” করতে চান এবং “শান্তি আমেরিকান জনগণের স্বার্থে।”
ইউক্রেনে রাশিয়ার তিন বছরব্যাপী যুদ্ধের নিষ্পত্তি সুতোর উপর ঝুলছে; এই সময় ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশাল মাধ্যমে কিয়েভের নেতাকে আক্রমণ করেন। জেলেন্সকি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, কিয়েভের চেয়ে মস্কোর সুবিধার দিকে বেশি ঝুঁকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চাইছেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জেলেন্সকি ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করতে অস্বীকার করছেন; এই নির্বাচন ২০২৪ সালের এপ্রিলে হওয়ার কথা ছিল, তবে ২০২২ সালে রাশিয়া আক্রমণ করার পর নির্বাচন পিছিয়ে যায়।
ট্রাম্প জেলেন্সকিকে “সফল কমেডিয়ান” বলে অভিহিত করে বলেন, “যে যুদ্ধ জেতা যাবে না, সে যুদ্ধ কখনও শুরু করাই ঠিক ছিল না, সেই যুদ্ধে যেতে তিনি (জেলেন্সকি) যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝিয়ে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ করিয়ে নিয়েছেন; তবে যুক্তরাষ্ট্র ও “ট্রাম্প” ছাড়া এই যুদ্ধ তিনি কখনও নিষ্পত্তি করতে পারবেন না।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি ইউক্রেনকে ভালবাসি, তবে জেলেন্সকি ভয়াবহ কাজ করেছেন; তার দেশ ছারখার হয়ে গেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ অহেতুক নিহত হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে…”
মঙ্গলবার সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিকদের বৈঠক থেকে ইউক্রেনকে বাদ দেওয়ায় জেলেন্সকি চলতি সপ্তাহে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর তার সম্বন্ধে এই মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এই বৈঠকে চার ঘন্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর দুই দেশ জানিয়েছে, কীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য শীঘ্র আবার বৈঠক করতে সহমত হয়েছে তারা।