সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের একের পর এক কূটনৈতিক উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ত:আটলান্টিক জোটের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে, যা ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। যার ফলে ইউরোপের নেতারা সোমবার প্যারিসে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকে অংশ নেন।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ, নেটোর মহাসচিব জেনারেল মার্ক রুটে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট আরসুলা ফন দার লেয়েন ও অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা এলিসি প্রাসাদে আয়োজিত এই জরুরি সম্মেলনে যোগ দেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্টারমার।
“এখানে শুধু ইউক্রেনের ভবিষ্যতই নির্ভর করছে না। এটা এখন সামগ্রিকভাবে ইউরোপের অস্তিত্বের প্রশ্ন এবং এ কারণে, এটা ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের জন্যেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”, বলেন তিনি
“নিশ্চিতভাবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র নেটো ছেড়ে যাচ্ছে না। তবে আমাদেরকে, ইউরোপিয়ানদেরকে আরও অনেক বেশি কাজ করতে হবে। দায়িত্বের বোঝা ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়টি নতুন না হলেও এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং ইউরোপীয়দেরকে উদ্যোগ বাড়াতে হবে, এবং তা ব্যয় এবং সক্ষমতা সৃষ্টি, উভয় ক্ষেত্রেই।”
“ইউরোপকে তার ভূমিকা পালন করতে হবে, এবং আমি অন্যান্যদের পাশাপাশি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত, যদি একটি টেকসই শান্তি চুক্তি বহাল থাকে—তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকতে হবে, কারণ রাশিয়াকে আবারও ইউক্রেনে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখার একমাত্র কার্যকর উপায় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আসা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা”, প্যারিসে সাংবাদিকদের বলেন স্টারমার।
এ সপ্তাহের শেষে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া শোলজ ইউরোপ ও ইউক্রেনকে শান্তি আলোচনার অংশ করে নেওয়ার আহ্বানে সুর মেলান।
ইউক্রেনের জন্য সাহায্য
গত এক সপ্তাহে ওয়াশিংটনের বেশ কিছু নীতির পরিবর্তনে ইউরোপের ভূরাজনৈতিক হিসেব পাল্টে গেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নেটো মিত্রদের জানান, ইউরোপকে রুশ আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইউক্রেনকে দেওয়া সহযোগিতার ন্যায্য ভাগ পরিশোধ করতে হবে।
“এখন বিনিয়োগ করার উপযুক্ত সময়, কারণ আপনারা ধরে নিতে পারেন না যে আমেরিকার উপস্থিতি চিরস্থায়ী হবে”, শুক্রবার ওয়ারসতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন হেগসেথ।
“বাস্তবতা হল, (ইউক্রেনের) ২০১৪ সালের সীমান্তে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি (যুদ্ধ অবসানের) দরকষাকষির অংশ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাস্তবতা হলো, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা কম। বাস্তবতা হলো, দরকষাকষির মাধ্যমে যে চুক্তি হবে, সেখানে ইউক্রেনের নেটো সদস্যপদ থাকারও সম্ভাবনা কম”, বলেন হেগসেথ।
২০২৪ সালে নেটোর ৩২ সদস্যের মধ্যে মাত্র ২৩ সদস্য জোটের লক্ষ্যমাত্রা মেনে তাদের মোট জাতীয় আয়ের দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করেছিল, যা ট্রাম্পের পাঁচ শতাংশের দাবি থেকে অনেক কম।