রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরুতে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে গ্রেফতার করা যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিককে রাশিয়া মুক্তি দিয়েছে।
মঙ্গলবার সৌদি আরবে বৈঠকের আগে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২৮ বছর বয়সী কেলব বায়ার্সকে ৭ ফেব্রুয়ারিত মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে আটক করা হয়। শুল্ক কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তারা বায়ার্সের মালপত্রের মধ্যে গাঁজাভর্তি মোরব্বা পেয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ার্স তার রুশ বান্ধবীর সঙ্গে ইস্তাম্বুল থেকে রওনা হয়েছিলেন। তার বান্ধবীকেও আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তিনি সে দেশে “উল্লেখযোগ্য পরিমাণ” মাদক চোরাচালানের চেষ্টা করেছিলেন এবং এই অভিযোগে তাকে হেফাজতে রাখা হয়। রাশিয়াতে এই অপরাধের জন্য ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
রাশিয়ার বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম ‘মেদুজা’ সোমবার বায়ার্সের অভিভাবকের ফেসবুক পোস্ট উল্লেখ করে জানিয়েছে, বায়ার্সকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি মস্কোতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দেশে ফেরার ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে নিশ্চিত করেছেন, রবিবার রাতে বায়ার্সকে মুক্তি দিয়ে দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। এই কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মন্তব্য করেছেন কেননা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে তাদের আলোচনা করার অনুমতি নেই।
বায়ার্সকে নিয়ে এই প্রশ্নের উত্তরে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার সংবাদদাতাদের বলেন, সৌদি আরবে মঙ্গলবার বৈঠকে মস্কো “রুশ-আমেরিকার সম্পর্কের সার্বিক জটিলতা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা” করতে আগ্রহী, “সেহেতু এই পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট ঘটনাবলি দেখা যেতে পারে।”
বায়ার্সের বান্ধবীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। রুশ সংবাদ মাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে তাকে নাইদা মামবেতোভা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, একই অভিযোগে তাকে প্রাক-বিচারিক হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গত কয়েক বছর রাশিয়ায় আমেরিকান নাগরিকদের গ্রেফতারি ক্রমবর্ধমান হারে নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে; ইউক্রেনে যুদ্ধকে ঘিরে মস্কো ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়কালীন তলানিতে ঠেকেছে।