অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

 
সারা দেশে সহিংস ভাঙচুর: সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান টিআইবির

সারা দেশে সহিংস ভাঙচুর: সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান টিআইবির


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদশে (টিআইবি)
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদশে (টিআইবি)

ধানমন্ডি ৩২সহ সারা দেশে গত দুইদিন ধরে সংঘটিত অস্বাভাবিক ভাঙচুর ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদশে (টিআইবি)।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে টিআইবি সকল সহিংসতা প্রতিরোধে 'সরকারের বিবৃতিনির্ভর নির্লিপ্ততায়' ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিকে গণতান্ত্রিক উত্তরণ, সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে শুধু বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব সম্পন্ন করা নয়, সরকারের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য বলেও মনে করে সংগঠনটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দলীয়করণ ও পরিবারতন্ত্রের সীমাহীন লালসা-তাড়িত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সবচেয়ে বেশি অপূরণীয় ক্ষতি করেছে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দোসররা। বহুমাত্রিক অধিকার হরণের শিকার আপামর দেশবাসীর ক্ষোভের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে পলাতক শেখ হাসিনা ও তার দেশি-বিদেশি সহযোগীদের নির্লজ্জ ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণার প্রেক্ষিতে।"

তাই বলে আইনসিদ্ধ প্রতিক্রিয়ার পথ অনুসরণ না করে দেশব্যাপী যে প্রতিশোধপ্রবণ ভাঙচুর ও সহিংসতা চলেছে, তা কোনোভাবেই প্রহণযোগ্য হতে পারে না, বলছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

তিনি মনে করছেন, "এটি জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ সর্ম্পকে দেশ-বিদেশে ইতিবাচক কোনো বার্তা দিবে না।"

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, "আগে থেকে সহিংস কর্মসূচির ঘোষণা থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও তার সঙ্গে সহায়ক হিসেবে দায়িত্বপালনরত সেনাবাহিনী, তথা সরকার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আশঙ্কাজনকভাবে নির্লিপ্ততার পরিচয় দিয়েছে। পরবর্তিতে ঘটনাটি ‘অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত’ এমন বিবৃতি দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টাও লক্ষণীয়।"

একই সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারীদের মামলা দিয়ে হয়রানির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন সহনশীলতার পরিচয় দেবে— এমন প্রত্যাশাও করে টিআইবি।

কী ঘটছে বুধবার রাত থেকে

ঢাকার ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু জাদুঘর’ প্রথমে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের পর ভবনটির সিংহভাগ ক্রেন ও বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে একদল বিক্ষোভকারী। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধাসদনেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সারাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের বাড়িতেও ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ধানমন্ডির-৩২ নম্বরের বাড়িতে আগুন-ভাঙচুরের মধ্যে দিয়ে ঘটনার শুরু হয়। এরপর ৫ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি-দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের একাধিক ঘটনা ঘটে জানায় স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ফেসবুক পেইজে ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। আর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ৫ আগস্টের পর দ্বিতীয় দফায় ঢাকাসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি, কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা শুরু হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানা যায়, ঢাকা ছাড়াও খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, সিলেট, নোয়াখালী, ফেনী, রংপুর শেখ হাসিনার আত্মীয় এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

সরকার কী বিবৃতি দিয়েছে?

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেছে অন্তবর্তী সরকার।

এতে বলা হয়, “অন্তবর্তী সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সারাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছে। সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড শক্তভাবে প্রতিহত করবে।”

সরকার নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রস্তুত। কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে দায়ী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

XS
SM
MD
LG