গাজা ভূখণ্ডের হামাস পরিচালিত সরকার জানিয়েছে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত তিন লাখেরও বেশি মানুষ সোমবার উত্তর গাজায় ফিরে এসেছে। ইসরায়েল তল্লাশি চৌকিগুলো উন্মুক্ত করে দেয় এবং ফিলিস্তিনিদের ওই এলাকায় প্রবেশ করার অনুমতি দেয়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর প্রায় দশ লাখ মানুষকে উত্তর গাজা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এতদিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদেরকে ফিরে আসতে দেয়নি।
ইসরায়েল-হামাসের মধ্যেকার ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শুরুতে ফিলিস্তিনিরা গাজা সিটিতে ফিরতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে এই চুক্তির আওতায় গাজায় আটক সাত জিম্মি ও ইসরায়েলি কারাগারে আটক ৩০০ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। পাশাপাশি গাজায় মানবিক ত্রাণের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে মুক্তি পেতে যাওয়া বাকি জিম্মিদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। আটজনের মরদেহও ইসরায়েলের হাতে তুলে দেবে হামাস।
এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ পরবর্তী জিম্মি-বন্দি বিনিময় কার্যকর হবে।
গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি চান জর্ডান ও মিশর আরও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করুক, যাতে গাজা “খালি করে” ফেলা যায়। তবে ওই দুই দেশ (ট্রাম্পের) এই প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেছে। দেশগুলো বলেছে, সামনে আগানোর একমাত্র পথ হলো ইসরায়েলের পাশাপাশি পৃথক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের মতকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরই এই চিন্তাধারার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরাইল, মিশর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানও হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।
এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য এপি, এএফপি ও রয়টার্স থেকে নেওয়া হয়েছে।