রেলওয়ের লোকোমাস্টার ও রানিং স্টাফদের কর্মবিরতির কারণে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে কোনো ট্রেন ছাড়েনি।
যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, অনেকেই নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে এসে দেখছেন ট্রেন যাবে না।
মিরপুরের শিহাব আহসান, রাতে তার বেনাপোলের ট্রেনে ওঠার কথা ছিল কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে কোনও বার্তা না পেয়ে পরে রাতের বাসে উঠতে বাধ্য হন।
ভয়েস অফ আমেরিকাকে শিহাব বলেন, "এমন এক কাজ যেটার জন্য আমাকে সকালে বেনাপোল থাকতেই হবে। রেলওয়ে স্টেশন এসে জানতে পারি ট্রেন ছাড়বে না, ট্রেন ছাড়বেনা ভালো কথা এটা তো আমরা যারা টিকিট কিনেছি জানার অধিকার রাখি। কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেই, শুধু ফেসবুক আর নিউজে কিছুটা পড়েছি"।
এমন আরও হাজারো যাত্রী সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালে রেল স্টেশন গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
ক্ষুব্ধ যাত্রীরা রাজশাহীতে রেলওয়ে স্টেশনে ভাংচুর করেছে বলেও জানাচ্ছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
মঙ্গলবার সকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ও বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশন হতে চট্রগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লা, বগুড়া ও ময়মনসিংহগামী যাত্রীগণ তাদের ক্রয়কৃত রেল টিকেটে বিআরটিসি বাস সার্ভিসের মাধ্যমে ভ্রমণ করতে পারবেন।
মাইলেজের ভিত্তিতে পেনশন ও আনুতোষিক দেওয়া এবং নিয়োগপত্রের দুই শর্ত প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। ২৭ জানুয়ারির মধ্যে দাবি মানার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। দাবি না মানায় তাঁদের কর্মবিরতির কারণে গতকাল মধ্যরাত থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মধ্যে আছেন ট্রেনের চালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিকিট পরিদর্শকরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির নির্বাহী সহসভাপতি সাইদুর রহমানকে উদ্ধৃত করে দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে, "রাত ১২টার এক মিনিটে আমাদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। নতুন করে আর কোনো ট্রেন চলবে না। তবে যেসব ট্রেন রাত ১২টার আগে ছেড়ে গেছে, সেগুলো যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।"