হামাস ও ইসরায়েল একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি সম্পাদন করেছে যার ফলে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জঙ্গি গোষ্ঠীটির কাছে কিছু পণবন্দী মুক্তি পাবেন বলে মধ্যস্ততাকারীরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বুধবার জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটনে নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে মার্কো রুবিও’র শুনানীর সময়ে এই খবরটি জানান যুক্তরাষ্ট্র সেনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিম রিশ।
এই খবরটি দেওয়ার সময়, তিনি সতর্ক থাকার কথাও বলেন।
তিনি বলেন, “এটি উদযাপনের আগে আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে কি ভাবে তা কার্যক্ষম হয়”।
এই সংবাদটিকে দ্বিপাক্ষিক ভাবে স্বাগত জানানো হয়। রিশকে প্রত্যুত্তরে ডেমক্র্যাট সেনেটর ক্রিস মারফি বলেন, “ এটি নিশ্চয়ই একটি ভাল খবর”।
তবে দ্য এসোসিয়েটড প্রেসের এক খবরে বলা হয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে হামাসের সঙ্গে অস্ত্র বিরতি চুক্তি এখনো সম্পাদিত হয়নি এবং চূড়ান্ত বিষয়গুলি এখনো ঠিক করা হচ্ছে।
অস্ত্র বিরতির প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়িত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দ্য এসোসিয়েটড প্রেসকে এটা নিশ্চত করেছেন যে “কিছু” পণবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে জঙ্গিরা ইসরায়েলে আক্রমণ চালানোর পর থেকে তারা যাদেরকে পণবন্দি করে রেখেছে তাদের মুক্তি দিবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিবে।
ইসরায়েলি সৈন্যরা গাজা থেক পর্যায়ক্রমে সরে আসবে এবং কিছু ফিলিস্তিনি যারা এই সংঘাতে বাস্তচ্যূত হয়েছে তাদেরকে ফেরত আসতে দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনি অসামরিক লোকজনের জন্য সহায়তা বাড়াতে হবে।
মধ্যস্থতাকারীরা যখন অস্ত্রবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছেন তখনও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে তারা গাজার উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে তারা গাজা সিটি, খান ইউনিস ও দেইর আল বালাহতে হামাসকে লক্ষ্যবস্তু করে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেন নিরাপত্তার বিষয়ে ইসরায়েল কোন আপস করবে না এবং ভবিষ্যতে তারা যদি গাজা থেকে কোন ধরণের হুমকির সম্মুখীন হয়, তা হ’লে তারা হস্তক্ষেপ করবে।
জাতিসংঘ মঙ্গলবার জানায় যে সম্ভাব্য অস্ত্রবিরতির আলোকে তারা গাজায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের নেতৃত্বে কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনা লড়াই বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় তবে সাম্প্রতিক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ২০ জানুয়ারি নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাগ্রহণ ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চার বছরের মেয়াদ সমাপ্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন এই আপস আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন মঙ্গলবার যুদ্ধোত্তর পুণর্নিমাণ ও গাজার শাসন ব্যবস্থা নিয়ে শেষ মূহুর্তে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক পলিসি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলে ব্লিংকেন বলেন, “ গত ১৫ মাসের কৌশলগত অর্জনগুলো নিশ্চিত করার ও তা বহাল রাখার এবং উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি রচনার জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করেছি একজন স্বৈরশাসকের জায়গায় আরেকজন স্বৈরশাসককে আসতে যার ফলে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়”।
ব্লিংকেন বলেন যে এই পরিকল্পনায় আশা করা হচ্ছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জরুরি কাজগুলি সম্পাদনের জন্য ও অঞ্চলটির উপর নজরদারির জন্য একটি অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ গঠনের লক্ষ্যে “আন্তর্জাতিক অংশীদারদের” আমন্ত্রণ করবে। তিনি বলেন অন্যান্য অংশীদাররা, বিশেষত আরব রাষ্ট্রগুলি স্বল্প মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চত করতে সেনাবাহিনী পাঠাতে পারে।
এই নিরাপত্তা মিশন গাজা ও পশ্চিম তীরকে একত্রিত করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পথ পরিস্কার হওয়ার উপর নির্ভর করছে। ব্লিংকেন বলেন তখন কাজ হবে, “ মানবিক ও পুনর্নিমাণ প্রচেষ্টার জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসেব অনুযায়ী সেই থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৪৬,৫০০ লোককে হত্যা করা হয়েছে তবে ইসরায়েল বলছে যে এই মৃতের সংখ্যার মধ্যে হাজার হাজার হামাস যোদ্ধারাও রয়েছে।
গাজার অধিকাংশটাই লড়াইয়ের সময়ে অবহেলিত হয় এবং মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়। সেখানকার ২৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যূত হয়ে পড়ে।
এই প্রতিবেদনে কিছু তথ্য এসেছে এপি, এফপি ও রয়টার্স থেকে।