যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, এক বছর পর সামনাসামনি আলোচনায় দু'দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ পুনরায় স্থাপন করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
যেসব বিষয় সম্প্রতি দু'দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে, সেগুল নিয়ে বাইডেন ও শি প্রায় চার ঘন্টা ধরে আলাপ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কো শহরের অদূরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে, দু'দেশের প্রেসিডেন্ট নিজেদের মধ্যে তাৎক্ষনিক যোগাযোগের জন্য 'হটলাইন' স্থাপন করতে সম্মত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি পরিষদের তদানীন্তন স্পীকার ন্যান্সি পেলসি ২০০২ সালের আগস্ট মাসে তাইওয়ান সফরের পর, চীন আমেরিকার সামরিক বাহিনীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তারা যোগাযোগ পুনরায়ে চালু করার সিধান্ত নিয়েছে।
বাইডেন বলেন, “আমরা প্রত্যক্ষ ভাবে সরাসরি , খোলামেলা যোগাযোগে ফিরে এসেছি”।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন আরও বলেন, তিনি এবং রাষ্ট্রপতি শি উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ স্থাপন করতে সম্মত হয়েছেন।
"তিনি আর আমি রাজি হয়েছি, আমরা দুজনে সরাসরি ফোন করতে পারব এবং আমরা সাথে সাথে কথা বলতে পারব," বাইডেন বলেন।
বাইডেন দু'দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার অনুরোধ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন।
গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সামরিক বাহিনী একাধিকবার পরস্পরকে আঘাত করার কাছাকাছি এসেছে এবং তাদের মধ্যে তিক্ততার আদান প্রদান হয়েছে।
চীন আর ফেনটানিল সমস্যা
সান ফ্রান্সিস্কোর বৈঠকে বাইডেন ও শি একমত হয়েছেন যে, চীন আফিম জাতীয় মাদক ফেনটানিলের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করবে। ধারনা করা হয়, ফেনটানিল যুক্তরাষ্ট্রে মাদক অপব্যবহারের প্রধান উপাদান।
বাইডেন বলেন, “এর ফলে জীবন রক্ষা পাবে।" তিনি আরও বলেন যে, এ বিষয়ে শি’র প্রতিশ্রুতিকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদদাতাদের বলেন, এই চুক্তি অনুযায়ী যেসব সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক কোম্পানি ফেনটানিলের লক্ষণ বহন করে, তাদের বিরুদ্ধে চীন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা ব্যাপারে সম্মত হন।
বাইডেন এই বৈঠকের সাফল্যকে বর্ণনা করেছেন এই ভাবে - “শুধুই কথা, একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা কথা যাতে করে ভুল বোঝাবুঝির কোন অবকাশ না থাকে।"
তাইওয়ান নিয়ে কথা
তাইওয়ান সম্পর্কে মতবিনিময়কে যুক্তরাষ্টের একজন কর্মকর্তা বর্ণনা করেছেন। এই গণতান্ত্রিক দ্বীপকে চীন নিজের অংশ বলে দাবি করে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা জানিয়েছেন শি বাইডেনকে বলেন, চীন চায় শান্তিপূর্ণ ভাবে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের পুনএকত্রিকরণ। তবে শি এমন পরিস্থিতির কথাও বলেন যেখানে শক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা জানান বাইডেন বলেন, "আমরা চীনাদের বলেছি, তাইওয়ানের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে”।
কর্মকর্তাটি শিকে উদ্ধৃত করে বলেন, “দেখুন শান্তি সব সময়ে ভাল, তবে কোন কোন সময় আমাদের সংকল্পের দিকে আমাদের এগোতে হবে।"